Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • করোনা পেরিয়ে পাহাড় সমুদ্রে

    শুভস্মিতা কাঞ্জী | 01-12-2020

    সান্দাকফু থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা

    মার্চ মাস থেকে একটানা গৃহবন্দি হয়ে থাকতে থাকতে যেন ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই দূরপাল্লার ট্রেন চালু হতে না হতেই অনেকে পাড়ি জমিয়েছে এদিক ওদিক। কারও গন্তব্য দার্জিলিং, তো কারও সিকিম, কেউ আবার রাজ্যের সীমানা অতিক্রম করে মানালি কী কেরালা অবধি পৌঁছে গেছে। কিন্তু করোনার ভয়? সংক্রমিত হওয়ার আতঙ্ক? ধুর! মনে অত ভয় থাকলে কি আর ঘুরতে যাওয়া হয়? 

     

    সোশাল মিডিয়া এখন ভরে আছে সোলাং ভ্যালি বা সিকিমের বরফপাতের ছবিতে। সদ্য দার্জিলিং থেকে ঘুরে আসা এক পর্যটক অন্তরীপ বোস জানান, ‘অফিসে তো এখন ওয়ার্ক ফ্রম চলছে, ফলে কাজ করা নিয়ে কথা, সে বাড়ি থেকে করি বা দার্জিলিং-এর হোটেল থেকে। কিন্তু এতদিন বাড়ি থাকতে থাকতে এক প্রকার হাঁপিয়ে উঠেছিলাম তাই দুই বন্ধু ট্রেনের টিকিট কেটে চলে গেলাম দার্জিলিং। মোটের উপর সেখানে ভালই ভিড় ছিল। অফিসের কাজ আর ঘোরা দুই হয়ে গেল।‘ কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ঘুরতে যেতে ভয় করল কিনা সেই প্রশ্ন করায় সে জানাল, ‘ভয় কিসের? কয়েকজনের থেকে শুনেছিলাম ট্রেন নাকি দারুন ভাবে স্যানিটাইজ করা হচ্ছেগিয়ে দেখলাম সত্যি তাই, ভারতীয় রেল দারুন ভাবে সমস্ত পরিষেবা দিচ্ছে এই কোভিড পরিস্থিতিতে, সমস্ত বিধিনিষেধ মানছে। সঙ্গে নিজেরাও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম, এই যেমন বারবার স্যানিটাইজার স্প্রে করা, বা হাত পরিষ্কার করা ইত্যাদি।' রাজ্যে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন এভাবে ঘুরতে গেলে একটা ভয় তো থাকেই, কিন্তু যখন একঘেয়েমি তাকে ছাপিয়ে যায় তখন মানুষ এভাবেই বেরিয়ে পড়ে সমস্ত ভয়কে পিছনে ফেলে রেখে। 

     

    এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী শুভদীপ ভট্টাচার্য জানান, ‘ক’দিন আগেই দীঘা থেকে ঘুরে এলাম। অতটা ভিড় ছিল নাবিচ প্রায় ফাঁকাই ছিল। আর রিসর্টেও সমস্ত নিয়ম মানা হচ্ছিল, ঘর স্যানিটাইজ করা, আমরা যখন চেক-ইন করলাম তখন টেম্পারেচার চেক করা, ফুল বডি স্যানিটাইজ করা সবই করেছে। সব থেকে অবাক হলাম দাগারা বিচে গিয়ে, আমরা ছাড়া আর একটাও লোক নেই! সত্যি বলতে, এখন ভয় পেয়ে বসে থাকলে বসেই থাকতে হবে। কারণ কতদিনে ভ্যাকসিন আসবে জানা নেই, ততদিন কি ঘুরতে যাব না?’

     

    সোলাং ভ্যালিতে বরফপাত

     

    ঠিকই তো, বাঙালিকে এভাবে ঘরে আটকে রাখতে চাইলে সে তো জানতেই চাইবে আমরা কি যাব না ঘুরতে, ঘুরতে যাব না আমরা? কিন্তু ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর কী বক্তব্য? ‘ট্রেক অ্যান্ড মোর’ সংস্থার কর্ণধার অনুরূপ চৌধুরী জানান, ‘আমরা সেপ্টেম্বরের শেষ থেকেই আবার ট্রিপ চালু করেছি, আর বিশ্বাস করুন একটা ট্রিপ খালি যায়নি, বা ক্যান্সেল করতে হয়নি পর্যটকের অভাবে। উল্টে জায়গার অভাবে অনেককে না করে দিতে হয়েছে। ট্রেনের টিকিট দু’মাস আগে বুক করলেও অনেক সময় ওয়েটিং লিস্টে নাম চলে যাচ্ছে তাহলেই ভাবুন ঘুরতে যাওয়ার হিড়িক কতটা। এই তো এখনও দু’টো দল সান্দাকফুর পথে আছে।' ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে তারা কী কী সতর্কতা অবলম্বল করছেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আগে গাড়িতে যতজন ধরত ততজনই নেওয়া হত, এখন তার থেকে কম নেওয়া হচ্ছে। টেন্ট বারবার স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। এছাড়া, এখন কেউ যদি চান শুধু ফ্যামিলি বা বন্ধুদের সঙ্গেই যাবেন, আমরা তাদের জন্য আলাদা ট্রিপের বন্দোবস্ত করে দিচ্ছি এখান থেকেই।'

     

    শুধু এখানেই থেমে নেই, যারা সদ্য ঘুরে এসেছেন, তারা সোশাল মিডিয়ার বিভিন্ন ভ্রমণমূলক গ্রুপে সমস্ত তথ্য জানিয়ে দিচ্ছেন যে কী ভাবে যেতে হবে, কোথায় কোন কোন দর্শনীয় স্থান খোলা থোকছে, আর কোনটাই বা বন্ধ। বর্তমান সময়ে কত কী খরচ পড়তে পারে, লকডাউন পরবর্তী সময়ে কী কী বদল এসেছে সমস্তটাই এই সব গ্রুপে জানা যাচ্ছে। ফলে যারা এখনও সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারছেন না যে, এই অবস্থায় বেড়াতে যাওয়া ঠিক হবে কী হবে না, তারাও খানিকটা সাহস পেয়ে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলছেন। আরে বাবা এতদিন বন্দিদশার পর মুক্তির স্বাদ পেতে কে না চায়! কিন্তু সেই স্বাদ পাওয়ার আগে ‘জুজু’র মতো চোখ রাঙাচ্ছিল করোনা, কিন্তু আশ্বাস পেয়ে বাঙালি সেই সমস্ত ভয়কে নস্যাৎ করে বেরিয়ে পড়ছে আবারও ‘অজানারে জানতে’


    শুভস্মিতা কাঞ্জী - এর অন্যান্য লেখা


    আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি কেন তুলনামূলক ভাবে কম হয়? হলেও তা ওমান বা গুজরাটের দিকে বাঁক নেয় কেন?

    সম্পর্কের ভাঙা গড়ার সঙ্গে বাস্তবজীবনের গল্প যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

    পাতাখোর হলে যেন চুরির অপরাধ আর ধর্তব্য নয়!

    "ভাই লন্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়বে। কী শিখবে ভাই অর্থনীতি নাকি... হেঁ হেঁ হেঁ।'

    সবাই গঙ্গার এই ভাঙন খেলা থামার আশায় পথ চেয়ে আছে।

    সিক্স সিগমা পরিচালিত ‘তাবিব, দ্য ফিজিশিয়ান’ বর্তমান সমাজের ছবি তুলে ধরেছে।

    করোনা পেরিয়ে পাহাড় সমুদ্রে-4thpillars