Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • বর্গি এল ঘরে

    অরিত্র সোম | 11-12-2019

    বর্গি এল ঘরে, প্রতীকী ছবি

    রাজদরবারে তিনটে নতুন কামান আনা হয়েছে। সে এক এলাহি ব্যাপার। রাজা, মন্ত্রী, পারিষদ সবাই প্রায় হামলে পড়েছে সেটার ওপর। ভিড়ের মধ্যে থেকে নিন্দুকেরাও উঁকিঝুঁকি মারছে। সেনাপতিরা বল্লম উঁচিয়ে তাঁদের আটকাতে ব্যস্ত। কিন্তু দরবারে হঠাৎ কামান! হলটা কি! যুদ্ধ-টুদ্ধ লাগল নাকি!
     
    যুদ্ধই বটে। রাজ্যের মধ্যে হঠাৎই যেন মাটি ফুঁড়ে উঠেছে ছোট ছোট বর্গির দল। এক অদ্ভুত রকমের অস্ত্রে রাজ্যবাসীকে ঘায়েল করছে তারা। এই ধরুন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন, ঝোপের আড়াল থেকে টুক করে অস্ত্রের খোঁচা মেরে ভাগলওয়া। কিংবা ধরুন ঝিলের ধারে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন, হঠাৎ, হাতে এসে লাগল খোঁচা। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার আগেই, বর্গি হাওয়া! এমনকি, গৃহস্থের বাড়িতে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। হুল ফোটাল তো ফোটাল, তারপর নাকি আবার টপাটপ মানুষ মরছে। অজানা জ্বর, নাকি ঝাড়ফুঁক! এ কি জ্বালা রে বাবা।
     
    রাজা পড়েছেন মহা বিপদে। একে তো নিন্দুকের দল জোট বেঁধে লুকিয়ে আছে প্রাসাদের বাইরে। যখনই পারছে, কুৎসা ছড়াচ্ছে। তার ওপর এমন অত্যাচার! মঞ্চে উঠে কত বকাঝকা করলেন, কত আলো লাগালেন, কত মন্দির বানালেন। চারিদিকে লাগিয়ে রাখলেন নিজের ছবি, যাতে একটু ভয় পায় ব্যাটারা। কিন্তু কোথায় কি! রাজা যুবরাজকে পাঠিয়েছিলেন একটু খোঁজখবর নিতে। সে তো কিছুই টের পেল না। সব কি তাহলে ওই বদমাইশগুলোর কীর্তি? ছদ্মবেশে এসে বিষ-মাখা তরোয়াল ফুটিয়ে যাচ্ছে? এদিকে রাজামশাইয়ের ঘুমের ওষুধ একটার পর একটা বেড়েই চলেছে। অবশেষে মন্ত্রী রাজজ্যোতিষীর মন্ত্রপূত তিনটে কামান নিয়ে এসেছে। এবার ব্যাটা কোথায় যাবে? কামান দেগে জবাই করবই।  
     
    কিন্তু কথায় বলে, এক মাঘে শীত যায় না। কামানের মশলা কোথায়? পারিষদরা ছুটলেন বাজারে। কিন্তু বাজার কই? শুধু ভাজাভুজির দোকানগুলো ছড়িয়ে আছে। কোট-প্যান্ট পরে দোকানিরা ঘুমিয়ে আছে। বাকি দোকান? খেয়াল পড়ল, দেশের রাজাধিরাজ সম্রাট তো দোকানগুলো সব বিক্রি করে দিয়েছেন! সেখানে নাকি কীসব মল-টল হবে। তাহলে উপায়? কোথা থেকে পাওয়া যাবে কামানের মশলা?
     
    ঝোপের পিছন থেকে নিন্দুকেরা উঁকি মারছে। মাঝে মাঝে ফিকফিক করে হাসির আওয়াজ। রাজামশাইয়ের সুন্দর গন্ধওয়ালা চায়ের ওপর পিঁপড়ে ভাসছে। পারিষদরা চপ খাচ্ছেন, আর ছবি তুলছেন। এদিকে রাস্তার ওপর দিয়ে দুটো শ্মশানযাত্রীর দল বেরিয়ে গেল। আরও কিছু পেছনের লাইনে অপেক্ষা করছে। বর্গির দল ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যে। রাজাধিরাজ সম্রাট বিদেশে গেছেন বাণী শোনাতে। আর স্কুলের উল্টোদিকে, পণ্ডিত-ছাত্র-ভিখারিরা অনশনে বসেছে দশদিন হল। সেনাপতিও যাচ্ছেন সেখানে। শায়েস্তা করতে।


    অরিত্র সোম - এর অন্যান্য লেখা


    কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়া - যেখানেই যান, মহাকবির বংশধর সর্বত্র।

    রাজা পড়েছেন মহা বিপদে। একে তো নিন্দুকের দল জোট বেঁধে লুকিয়ে আছে প্রাসাদের বাইরে

    এত হাসিখুশি মানুষটা আজকাল বসে থাকে চুপচাপ। অত জম্পেশ করে কাটা দাড়িটাও কেমন মিয়ানো মুড়ি হয়ে গেছে

    বর্ষা আসার পর জলের সঙ্গে যন্ত্রণাও না চাইতেই চলে আসে। প্রত্যেক বর্ষায় রাস্তার একই অবস্থা।

    নিজেদের পরিচয় আমরা কপালে তিলক কাটার মতোই শুরুতে লিখে রেখেছি। প্রশ্ন করে সকলকে।

    এবার কালী তোমায় খাব

    বর্গি এল ঘরে-4thpillars