Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • নিজের ভাল পাগলেও বোঝে, চাষিরা বোঝে না?

    রঞ্জন রায় | 26-09-2020

    বিক্ষুব্ধ অন্নদাতারা

    কেন্দ্রীয় সরকার গত এপ্রিলে করোনাজনিত লকডাউনের মধ্যেই কৃষি ব্যবস্থার সংস্কার সম্পর্কিত তিনটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল। এবার বর্ষাকালের সংক্ষিপ্ত অধিবেশনে সেগুলো যেভাবেই হোক পাশ করানো হয়েছে। কিন্তু যথেষ্ট আলোচনা হয়নি। রাজ্যসভায় বিল পাশের পদ্ধতির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কৃষির আমূল সংস্কার মানে তার সঙ্গে দেশের 60 শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় 80 কোটি, যা ইউরোপের মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে সরকারের পক্ষে থেকে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সরকারের এত তাড়াহুড়ো কেন?

     

    প্রধানমন্ত্রী বলছেন কৃষি সংস্কারের উদ্দেশ্যে তৈরি এই তিনটি বিল পাশ হওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা!

     

    এর সুদূরপ্রসারী ফল হবে তিনটি। এক, কৃষক নিজের উৎপন্ন দ্রব্যের দাম নিজে ঠিক করতে পারবে এবং আড়তিয়া বা মিডলম্যানদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন হবে।

     

    দুই, দেশের এক প্রান্তের কৃষক তার নিজের সুবিধে মত দেশের আরেক প্রান্তে বা যে কোনও জায়গায় নিজের কৃষিপণ্য বিক্রি করতে পারবে। এভাবে একটি রাষ্ট্রীয় কৃষিপণ্যের বাজার রূপ নেবে।

     

     তিন, কন্ট্রাক্ট ফারমিং বা চুক্তিমাফিক চাষের মাধ্যমে পণ্যের বিক্রয় মূল্যের দাম  চাষ শুরু করার আগে থেকেই ঠিক হয়ে থাকবে। ফলে বাজারদরের ওঠানামার ঝক্কি চাষিকে পোহাতে হবে না। এর ফলে কৃষকের আয় 2022 নাগাদ দু’গুণ হয়ে যাবে।

     

    তাহলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর কৃষকেরা করোনাকে অগ্রাহ্য করে কেন পথে নেমে রেল রোকো, রাস্তা রোকো করছে? নিজের ভাল তো পাগলেও বোঝে। চাষিরা কেন বোঝে না? বিরোধিরা উসকেছে? ভুল বুঝিয়েছে? কিন্তু বিজেপির পুরনো জোটসঙ্গী আকালি দল কেন মন্ত্রিসভা ছেড়ে গেল? কেনই বা খোদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘও খুশি নয়?

     

    এর উত্তর পেতে গেলে প্রথমে দেখতে হবে এতদিন কৃষিপণ্যের কেনাবেচার ব্যবস্থাটি কী ছিল? তিনটি বিলে কী কী পরিবর্তন করা হল এবং তার বাস্তব প্রয়োগের রূপরেখাটি কেমন হতে পারে। তাহলে এই সংস্কারের ফলে কার লাভ কার ক্ষতি তার কিছুটা অনুমান করা সম্ভব হবে।

     

    এই আলোচনায় আমাদের চারটি শব্দের তাৎপর্য বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ: এপিএমসি, আড়তিয়া, এমএসপি ও কন্ট্র্যাক্ট ফার্মিং।

     

     এতদিন কৃষিপণ্যের কেনাবেচা কীভাবে হচ্ছিল?

    স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশে কৃষকেরা কীভাবে তাদের উৎপাদন বাজারে বেচত তার চমৎকার ছবি রয়েছে তৎকালীন নার্গিস-সুনীল দত্ত অভিনীত ছবি “মাদার ইন্ডিয়া”তে। সুখীলালার (কানহাইয়ালাল) মতো মহাজনেরা চাষিদের বীজ-হালবলদের জন্য ঋণ দিত এবং উৎপন্ন ফসল নানা অজুহাতে অনেক কম দামে কিনত। গরিব কৃষকের ঋণের বোঝা বেড়েই চলত, তারপর একদিন বন্ধক রাখা ভিটেমাটি চাটি হয়ে যেত।

     

    এই শোষণের হাত থেকে মুক্তি দিতে নেহরু সরকারের সময়ে পঞ্চাশের শেষের দিকে মডেল আইন তৈরি করে রাজ্যসরকারদের বলা হল এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস মার্কেট রেগুলেশন (এপিএমআর) অ্যাক্ট পাশ করাতে। কারণ, কৃষি সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে। এর ফলে ষাট সত্তরের দশক থেকে “সবুজ বিপ্লবের” সময় অধিকাংশ রাজ্য নিয়ম করল যে আগের মত আর কৃষকের দোরগোড়া থেকে ফসল কেনা চলবে না। তৈরি করল এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস মার্কেট  কমিটি বা এপিএমসি। এর দুটো কাজ: (1) এটা সুনিশ্চিত করা যে কৃষকেরা যেন সুদখোর মহাজন বা আড়তিয়াদের চক্করে নিজেদের ক্ষেতের ফসল খুব কম দামে  বেচতে বাধ্য না হয়, এবং (2) সমস্ত খাদ্যান্ন (ফুড প্রোডিউস) আগে কৃষি মন্ডীর চত্বরে আনতে হবে, তারপর সেখানে নিলামের মাধ্যমে লাইসেন্সড আড়তিয়াদের কাছে বেচতে হবে।

     

    তৈরি হল সরকারি কৃষিপণ্যের বাজার বা ‘মন্ডি’, ঠিক আজকালকার মিউনিসিপ্যালিটির সবজিবাজারের মত। তাতে দোকান লাগিয়ে বসবে লাইসেন্স-প্রাপ্ত আড়তিয়ারা। রাজ্যের এবং জেলা স্তরের এপিএমসি তাকে নিয়ন্ত্রণ করবে তাদের থেকে ট্যাক্স নেবে। কৃষক তার পণ্য নিয়ে এসে আড়তিয়াদের সঙ্গে দরাদরি করে যার দর উপযুক্ত মনে হবে তাকে বেচবে। হোলসেল এবং খুচরো দোকানদারেরা সোজাসুজি চাষিদের থেকে ফসল কিনতে পারবে না। তাদের ওই কৃষি মন্ডিতে এসে আড়তিয়াদের থেকে কিনতে হবে।

     

    আড়তিয়াদের কাজটা কী?

    লাইসেন্সধারী আড়তিয়ারা চাষীর থেকে কেনা পণ্য নিজের খরচে গুদামে রাখবে যাতে নষ্ট না হয়ে যায় এবং পরে বাজারের অবস্থা বুঝে বড় ব্যবসায়ী বা খুচরো দোকানদারের কাছে যাতে ভাল দামে বেচতে পারে। এপিএমসি এটা দেখবে যাতে আড়তিয়া কৃত্রিম ভাবে খাদ্যদ্রব্য বা অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম খুব বেশি বাড়াতে না পারে। নইলে খোলা বাজারে হোলসেল এবং খুচরো ব্যাপারিরাও দাম বাড়াতে বাধ্য হবে। ভোগান্তি হবে অন্তিম ক্রেতার, মানে সাধারণ মানুষের।

     

    এই নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ার হল এসেনশিয়াল কমোডিটিজ কন্ট্রোল অ্যাক্ট বা আবশ্যক পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন যার মাধ্যমে ওই জরুরি পণ্যগুলি কতটা মজুত করে গোডাউনে ধরে রাখা যাবে তার ঊর্ধসীমা বেঁধে দেওয়া হয় । আড়তিয়ারা মোটামুটি 2.5 শতাংশ কমিশনে কাজ করে। এভাবে আড়তিয়ারা উৎপাদনকর্তা কৃষক এবং ভোক্তা অ-কৃষকের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ করে।

     

    কিন্তু যদি কোনও বছর এত বেশি ফসল হয় যে খোলা বাজারে দাম খুব পড়ে যায় বা আড়তিয়ারা নিজেদের মধ্যে সাঁটগাট করে কার্টেল বানিয়ে দর এমন কম রাখে যে চাষীদের পড়তা পোষায় না তখন?

     

    এর জন্য এসেছে মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (এমএসপি), অর্থাৎ সরকার ধান গম তিসি থেকে শুরু করে 21টি কৃষিজ পণ্য এমন একটি দামে কিনে নেবে যাতে কৃষকের চাষের খরচা উঠে গিয়ে সামান্য লাভ থাকে যাতে সে খেয়ে পরে বাঁচে এবং আগামী বছর আবার ফসল ফলাতে উৎসাহী হয়। সরকার এই এমএসপি প্রতিবছর চাষের মরশুমে আগাম ঘোষণা করবে এবং কেনা ফসল ফুড করপোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (এফসিআই) গুদামে রাখবে। তার থেকে রেশনে সস্তা দরে মানুষকে চাল-গম-চিনি দেবে।

     

    গত দু’দশক ধরে মনমোহন সিংহের ইউপিএ সরকারের সময় থেকে দু’টাকা কেজি দরে গম এবং তিনটাকা কেজি দরে চাল বিপিএল কার্ডধারকদের দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খাদ্য সুরক্ষা আইনের (2013) প্রয়োগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হল যে কেউ যেন অনাহারে মারা না যায় এটা দেখা জেলাশাসকের দায়িত্ব। তার জন্য দরকার হলে গোডাউনে পড়ে থাকা উদ্বৃত্ত চাল গরিবদের বিনে পয়সায় বিতরণ করতে হবে।

     

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এপিএমসি (এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস মার্কেট কমিটি) এবং মন্ডী ব্যবস্থায় ফাটল ধরেছে এবং তাতে সংস্কারের আবশ্যকতা গত দু’দশক ধরেই চলছে। ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি গঠন এবং এফ সি আই সংস্কারের ব্যাপারে শান্তাকুমার কমিটি (বিজেপি নেতা এবং হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী) 2015-তে রেকমেন্ড করে যে কৃষকদের থেকে শস্য এফ সি আইয়ের গোডাউনে রাখার কাজটা রাজ্যসরকার এবং প্রাইভেট সেক্টরের হাতে তুলে দেওয়া হোক। সেই রেকমেন্ডশন মেনেই প্রথমে 14 এপ্রিল 2016-তে, আম্বেদকরের জন্মদিনে,  প্রধানমন্ত্রী দেশের সমস্ত মন্ডীকে (প্রায় 7000) ডিজিটালি যুক্ত করবার যোজনা ঘোষণা করে বললেন –এর ফলে বাংলার কৃষক কেরালায় ভাল দাম পেলে ডিজিটালি অর্ডার বুক করে ওখানে চাল পাঠিয়ে দেবে ।

     

    ’বছর কৃষিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী মাত্র 900 মন্ডী এভাবে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এর ফলে বাংলার চাল লাভজনক ভাবে দেশের অন্যপ্রান্তে বিক্রি হচ্ছে কিনা সেটা জানা যায়নি। বর্তমান বিলগুলো কেন সিলেক্ট কমিটিতে না পাঠিয়ে বা কিসান সমিতি এবং বিরোধীদের সঙ্গে চর্চা না করে সাত তাড়াতাড়ি পাশ করানো হল প্রশ্ন করলে সরকারের মন্ত্রী/মুখপাত্ররা বলছেন—এটা শান্তাকুমার কমিশনের সুচিন্তিত সুপারিশ মেনে করা হয়েছে। বেশি কচকচি করে সময় নষ্ট করার কী দরকার?

     

    কৃষি সংক্রান্ত তিনটি বিলের মূল বক্তব্য ও লক্ষ্য:

    1. The Essential Commodities (Amendment) Bill, 2020

    এতদিন চাল-গম-ডাল-তেল-পেঁয়াজ-আলু এসব একটা নির্ধারিত পরিমাণের বেশি মজুত করা যেত না। করলে সেটা কালোবাজারি বলে গণ্য হত এবং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ত। এখন থেকে এর আগল খুলে দেওয়া হল। যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে তখন সরকার এ নিয়ে মজুতের ঊর্ধসীমা ঘোষণা করতে পারে। নইলে কোনও দোকানে পুলিশ স্টক চেক বা গোদাম সার্চ করতে পারবে না। কবি সুকান্তের “শোনরে মালিক, শোনরে মজুতদার” পংক্তিটি আজ অর্থহীন।

     

    সরকারের বক্তব্য এর ফলে প্রাইভেট সেক্টর এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ পুঁজি এখানে এসে কোল্ড স্টোরেজ বানিয়ে সাপ্লাই চেনকে কম্পিটিশনের মাধ্যমে আধুনিক এবং মজবুত করবে। অর্থাৎ সরকার ক্রমশ চাষির ফসল কেনা, এফসিআইয়ের গোডাউন বানিয়ে মজুত করা এসব থেকে হাত ধুয়ে ফেলবে।

     

    এর বিরুদ্ধমতে বলা হচ্ছে এর ফলে বড় ব্যবসায়ী এবং কর্পোরেট হাউস প্রথম বছর ভাল দামে চাষির থেকে কিনে বিশাল স্টক করবে। পরের বছর ঔদাসীন্য দেখিয়ে চাষিকে বাধ্য করবে কম দামে ফসল বেচতে।

     

     

    2. Farmer’s Produce Trade and Commerce (Promotion and Facilitation) Bill, 2020

    এই বিলের বিরুদ্ধেই পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় বিক্ষোভ বেশি হচ্ছে। কারণ এই বিল অনুযায়ী চাষিরা তাদের পণ্য মন্ডীর বাইরে, জেলার বাইরে এমনকী রাজ্যের বাইরে অবাধে বিক্রি করতে পারবে। এবং ভিনরাজ্যের ব্যবসায়ী এসেও কিনে নিয়ে যেতে পারবে। ওদের সরকারকে কোন ট্যাক্স দিতে হবে না। আড়তিয়াদের মন্ডীকে ট্যাক্স দিতে হয়। তাই চাষিরা মন্ডীর বাইরে বড় এবং অন্য রাজ্যের ব্যাপারীর থেকে ভাল দাম পেলে স্বাধীন ভাবে বেচতে পারবে। ফলে আড়তিয়াদের কব্জা থেকে মুক্তি পাবে।

     

    গমচাষের মাধ্যমে সবুজ বিপ্লবের সুফল বেশি পেয়েছে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশ । সেখানে মন্ডীর ও আড়তিয়াদের নেটওয়ার্ক অর্ধশতাব্দী ধরে সুসংগঠিত। প্রচুর লোক এই ব্যবসায় এবং মন্ডীর চাকরিতে জড়িত। তাই এই এলাকায় বিক্ষোভ বেশি। সরকার অস্বীকার করলেও এটা স্পষ্ট যে এই অবাধ ছাড়ের ফলে মন্ডীর এবং আড়তিয়াদের ব্যবসা মার খাবে। রাজ্যগুলো ট্রেডিং-এর ফলে যে ট্যাক্স পেত তাও হারাবে।

     

    3. The Farmers (Empowerment and Protection) Agreement on Price Assurance and Farm Services Bill, 2020

    এটাকে এক কথায় বলা যায় দাদন দিয়ে বা চুক্তিচাষ। এতে বড় বড় হাউস যাদের খাদ্যদ্রব্যের রিটেইল চেইন (যেমন ইজি ডে বা রিলায়েন্স) বা বিস্কুট কোম্পানি একটা গোটা গ্রাম বা এলাকার সমস্ত চাষিদের সঙ্গে আগাম চুক্তি করল যে ওদের জমিতে কোম্পানির শর্ত অনুযায়ী বিশেষ ফসল বুনতে হবে বা বিশেষ জাতের মুরগী বা দুধেল গাই পালন করতে হবে।  উৎপন্ন পণ্য কী দামে ওরা চাষিদের থেকে কিনবে তাও চুক্তিপত্রে লেখা থাকবে। ফলে ফসল ফলানোর পর চাষি নিশ্চিন্ত। অতি-উৎপাদনে বাজারে দাম নামলেও কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী বেশি দামে কিনতে বাধ্য থাকবে। ফলে চাষি ঘরে বসেই হাতে হাতে ভাল টাকা পাবে। কোনও চাপ নেই। সরকার দেখাচ্ছে এটা চাষিদের জন্য উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা ইউপিএ-1 সরকারের সময় চেষ্টা করা হয়েছিল, বিশেষ সফল হয়নি।

     

    সরকার বলছে এর ফলে ফসল বাজারে বেচার ঝুঁকি চাষির নয়, বড় কর্পোরেশনের। ওরা উন্নত বীজ দেবে, ট্র্যাক্টর দিয়ে ক্ষেতের পর ক্ষেত চাষ করে দেবে এবং ফসল কাটার সময় হার্ভেস্টর লাগিয়ে রাতারাতি ক্ষেত সাফ! এতে লাভ প্রান্তিক ও ছোট কৃষকের।

     

    বিরোধী যুক্তি হচ্ছে চুক্তি যদি সমানে সমানে হয় তবে চাষির লাভ। কিন্তু সাধারণ চাষি কী ভাবে বিশাল কর্পোরেশনের সঙ্গে দরাদরি করে লাভদায়ক চুক্তি করবে? পরে যদি পণ্যের কোয়ালিটি কম বা অন্য কোনও অজুহাতে করপোরেশন না কেনে বা চাষিকে চাপ দিয়ে কম দামে বেচতে বাধ্য করে তার প্রতিকার কী? বিবাদ বা চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে চাষিরা কর্পোরেশনের সঙ্গে মামলা লড়বে? খাবে না উকিলকে ফীজ দেবে?

     

    এগুলো নতুন কিছু নয়, আগেও লাতিন আমেরিকার দেশে দেখা গেছে কীভাবে কফি, কোকো, তামাক এবং কলা ইত্যাদির চাষিরা আমেরিকার মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অসম চুক্তির ফলে পথে বসেছে।

     

    আমাদের বঙ্গে দেড় বা দু’শতাব্দী আগে যে নীলচাষ হত, তখনও নীলকর সাহেবের দল চাষিদের অগ্রিম দাদন দিয়ে ধানের বদলে নীলচাষ করতে বাধ্য করত না? স্বাধীন ভারতে ওই তুলনাটা হয়তো একটু বাড়াবাড়ি। আজ অমন চাবুক চালিয়ে জোর করে টিপছাপ দেওয়ানো যাবে না। কারও ঘর থেকে ক্ষেত্রমণিদের তুলে আনা যাবেনা। কিন্তু রাষ্ট্র যদি আইন ও প্রশাসনের শক্তি নিয়ে বিশাল কর্পোরেটদের পাশে দাঁড়ায় (যেমন ওদের মজুত করার একতরফা ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং মন্ডির বাইরে কৃষিপণ্য কেনাবেচার জন্য ট্যাক্সে ছাড় দেওয়া হয়েছে) তাহলে সাধারণ কৃষক কী করে সমানে সমানে পাঞ্জা লড়বে? দু’পক্ষের মতভেদ হলে বিবাদ সমাধান বা ডিস্পিউট রেজোলুশনের পদ্ধতি নিয়ে কোনও কথা এই বিলে নেই।

     

    সব মিলিয়ে সরকার পক্ষের দাবি:

    এক, এই বিলগুলো সরকার নিয়ন্ত্রিত এপিএমসি মন্ডীর একচেটিয়া অধিকার খর্ব করে কৃষকদের সোজাসুজি প্রাইভেট ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির সুযোগ করে দিচ্ছে।

     

    দুই, কৃষকদের বড় বড় কোম্পানিদের সঙ্গে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তাদের ফ্যাক্টরির জন্য কাঁচামাল ও কৃষিপণ্য উৎপাদনের আইনি পরিকাঠামো জোগাচ্ছে।

     

    তিন, কৃষিব্যবসায়ীদের তাদের দরকার ও সুবিধামত  কৃষিপণ্য  মজুত করার অনুমতি দিচ্ছে। আগের সরকারি নিয়ন্ত্রণ, স্টক চেকিং, মজুত করার ঊর্দ্ধসীমা সব  তুলে নেওয়া হচ্ছে।

     

    বিলের বিপক্ষে কৃষকদের আশঙ্কা:

    এক, বড় বড় কোম্পানির সঙ্গে কৃষকদের চুক্তি এক অসম পাঞ্জা লড়া। দর-কষাকষির সুযোগ ও ক্ষমতা কৃষকের কোথায়?

     

    দুই, কৃষকদের ভয় মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস ধীরে ধীরে তুলে দেওয়া হবে।

     

    তিন, অসংখ্য আড়তিয়া এবং মন্ডী কর্মচারি রোজগার খোয়াবে। কিন্তু কর্পোরেট হাউসের ব্যানারে বড় আড়তিয়ারা কার্টেল অথবা  এলাকা ভিত্তিক/পণ্যভিত্তিক মনোপলি চালাবে।

     

    চার, রাজ্য সরকারগুলো মন্ডীর ট্যাক্সের আমদানি খোয়াবে। কৃষি রাজ্যসরকারের এক্তিয়ারে আসে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এভাবে আইন পাশ করে রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব করল কিছু বড় কর্পোরেট ঘরানার স্বার্থে।

     

    আশঙ্কাগুলো কি একেবারে অমূলক?

    1. চাষীদের ফসল বিক্রির জন্য স্থান-কাল-পাত্র চয়নের স্বাধীনতা থাকবে বটে, কিন্তু প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দরাদরি করে ভাল লাভজনক চুক্তি করার মত জ্ঞান এবং সামর্থ্য (আর্থিক এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্ক) থাকবে না বলেই মনে হচ্ছে।

     

    2. মন্ডীর বাইরে কোনও নিয়ন্ত্রণ, কোনও নিয়ম নেই। কোনও ‘ক্ষোভ উপশমন ব্যবস্থা’ বা গ্রিভান্স রিড্রেসাল সিস্টেম নেই।

     

    এইসব আশঙ্কার ফলেই 25 সেপ্টেম্বর অল ইন্ডিয়া কিসান সংঘর্ষ (এআইকেএস) এর নেতৃত্বে 350টির বেশি কৃষক সংগঠন আন্দোলনে নেমে পাঞ্জাবে রেল-রোকো, দিল্লি-ইউপি রাজপথে রাস্তা রোকো আন্দোলন শুরু করেছে। বলছে তিনটে বিল প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

     

    ওদের মুখ্য অভিযোগ – এই তিনটে বিলে এমএসপি নিয়ে একটিও কথা না বলে  কৃষকদের মাথার উপরে সুরক্ষার ছাতাটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যদি এমন কোনও ধারা থাকত যে খোলা বাজারে যেই কিনুক চাষির থেকে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম দামের কমে কেনা চলবে না তাহলে মনে হয় বিক্ষোভ এত ব্যাপক ও তীব্র হত না। কেউ কেউ সরকারি এবং বেসরকারি স্টাডির উল্লেখ করে বলছেন যে মাত্র 7 শতাংশ কৃষক মন্ডী এবং এম এস পি’র লাভ পায়। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছেন যে ওই 7 শতাংশের অধিকাংশই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশের। তারা ওইএপিএমসি’র মন্ডী ব্যবস্থায় স্বচ্ছন্দ এবং সুরক্ষিত।

     

    আজ ভারতের কৃষি উৎপাদন জনসংখ্যার দরকারের চেয়ে কম নয়, বরং সমস্যা অতি-উৎপাদনের (ওভারপ্রোডাকশন)। ফলে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কৃষকের লোকসান। দু’বছর আগে পাঞ্জাবে কিছু বিক্ষুব্ধ কৃষকের রাস্তায় দুধ ঢেলে দেওয়ার দৃশ্য অনেকেই টিভি চ্যানেলে দেখে থাকবেন। এখানেই এমএসপি’র গুরুত্ব।

     

    এমএসপি নিয়ে সরকারের “না- বলা –বাণী” এবং কিছু কথা:

    ন্যূনতম সমর্থন মূল্য (মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস) অর্থাৎ সরকার যে দামে কৃষকের বিভিন্ন অবিক্রীত শস্য কিনতে রাজি তার ভিত্তি কোনও আইন নয়। বরং ‘কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল কস্টস এন্ড প্রাইসেস'-এর (সিএসিপি) সুপারিশের জোরে 1966-67 থেকে তা শুরু হয়েছে। আরম্ভ হয়েছিল গম নিয়ে, এখন তাতে ধান, আখ, তিসি সমেত যুক্ত হয়েছে আরও 21টি আইটেম।

     

    খেয়াল করুন, গত কয়েক বছর ধরেই এই সব রাজ্যের কৃষকরা পথে নামছেন, মূলত তাদের কৃষি এবং পশুপালনের উৎপাদনের নায্য দাম নির্ধারণের দাবিতে। স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী  এমএসপি ঘোষণা করার দাবিতে। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী  চাষের খরচের চেয়ে 50 শতাংশ বেশি এমএসপি হওয়ার কথা। কিন্তু খরচ বলতে ঠিক কী বুঝতে হবে? আসলে রিপোর্টে দুটো কস্টের কথা বলা আছে: সি-1 এবং সি-2 পরেরটিতে কিছু আনুষঙ্গিক খরচ এবং শ্রমের প্রতীক মূল্য ধরা হয়েছে। সরকার হিসেব কষছে সি-1 নিয়ে , কৃষকদের দাবি সি-2150 শতাংশ ধরে এমএসপি ঘোষণা করা হোক। ওই সমস্যা আজও অমীমাংসিত।

     

    ইউপিএ-2 সরকারের সময় শুরু হল জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন, 2013 (এনএফএসএ) যাতে সরকার আর্থিক হিসেবে দুর্বল নাগরিকদের রেশনের মাধ্যমে 2 টাকা কেজি দরে গম ও 3 টাকা কেজি দরে চাল দিতে আইনগত ভাবে দায়বদ্ধ হল।

     

    কিন্তু বর্তমান সরকারের তিনটি বিলে এমএসপি নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি। সরকারের ওই “না বলা বাণী”ই আতঙ্কের কারণ। তাই প্রবল রাজনৈতিক বিরোধিতার সামনে পড়ে প্রধানমন্ত্রী মুখে যতই বলুন, এমএসপি থাকছে, কৃষকরা তাতে আস্থা রাখতে পারছেননা। বোঝা যায়, দেশের কৃষক সমাজ প্রধামন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করছে না। 

     

    বিশিষ্ট কৃষি অর্থনীতিবিদরা কী বলছেন:

    টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের নাবার্ড প্রফেসর অর্থনীতিবিদ আর রামকুমার বলেছেন যে এককথায় বলতে গেলে এই তিনটে কৃষি রিফর্ম বিলের তাৎপর্য্য হল মাথা ব্যথা সারাতে মাথাটাই কেটে ফেলা।

     

    কৃষি অর্থনীতিবিদ দেবেন্দ্র শর্মার মতে, এই কৃষির খোলাবাজারের মডেলটি নতুন কিছু নয় বরং ইউরোপ আমেরিকায় অনেক আগে থেকেই পরীক্ষিত একটি ব্যর্থ মডেল। এর ফলে ওদের দেশে কৃষকদের আমদানি বছরের পর বছর সমানে কমছে এবং কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। ওসব দেশে কৃষি এবং তার পণ্য রপ্তানি মূলত সরকারি সাবসিডি নির্ভর। বিশ্ব ব্যাপার সংগঠন বা ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন প্রতিবছর রীতিমত বৈঠক করে এই ভর্তুকির পরিমাণ ঠিক করে।

     

    দিল্লির জে এন ইউয়ের ‘সেন্টার ফর ইকনমিক স্টাডিজ অ্যান্ড প্ল্যানিং’ এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিমাংশু’র বক্তব্য, যদিও কৃষকদের মন্ডী ব্যবস্থার অদক্ষতা/ত্রুটি/আড়তিয়াদের কার্টেল নিয়ে প্রচুর ক্ষোভ রয়েছে, তবু তারা এটাকে তুলে দেওয়ার বদলে সংস্কারের পক্ষপাতী। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় আড়তিয়ারা ‘ তথ্য, খবরাখবর, বীজ-সার এবং কখনও কখনও  বিনা জমানাতে সরল ঋণ পাওয়ার উৎস’। এছাড়া যেভাবে ওদের প্রতিনিধিদের, মন্ডী সংগঠনের বা রাজ্যসরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করে বিলগুলো ওদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হল তাতে ওরা ক্ষুব্দ। ওরা বলছে এই বিলগুলো কৃষকদের নয়, বড় কর্পোরেটদের কৃষিতে যা খুশি করার অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে। এর আগে কৃষি উৎপাদন বা বিপণন নিয়ে যত সংস্কার হয়েছে তাতে সবসময় স্টেক-হোল্ডারদের (স্বার্থ জড়িত এমন সব পক্ষের) মতামত নেওয়া হয়েছে।

     

    কৃষক সমস্যা গবেষক সাংবাদিক পি সাইনাথ বলছেন যে এই বিলগুলো এপিএমসি এবং মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস তুলে দিয়ে বিগ কর্পোরেটকে কিসানের কবজি মুচড়ে কমদামে ফসল কেনার  অধিকার দিচ্ছে। ফলে কৃষক অদূরভবিষ্যতে নিঃস্ব হবে।

     

    তাহলে বিকল্প কী?

    সাধারণ কৃষকদের (যাদের প্রধানমন্ত্রী অন্নদাতা বলেন) কর্পোরেটের দয়ার পাত্র না করে ওদের দরাদরির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া হোক। যেমন মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসকে আইন পাশ করে কৃষকদের ‘অধিকার’ বানিয়ে দেওয়া হোক, তবে ওরা স্বস্তি পাবে।

     

    এপিএমসি এবং মন্ডি সিস্টেমের দুর্বলতার সংস্কার প্রয়োজন। যেমন বিহার ও কেরালায় এপিএমসি আইন নেই। মহারাষ্ট্র দু’বছর আগে সংশোধন করেছে। তাতে কিন্তু বাস্তবে কোনও ফারাক দেখা যায়নি। আজ বিহারের কৃষকের আয় ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তালিকায় বেশ নীচের দিকে এবং ওই অ্যাক্ট না থাকায় বিহার কেরালার বা মহারাষ্ট্রের কৃষিতে দেশি বিদেশি পুঁজি নিবেশ এবং আধুনিকীকরণের বন্যা বয়ে যায়নি।

     

    তাহলে সরকার কী কী করতে পারে?

    চাইলে অনেক কিছুই।

     

    • প্রথমে দরকার কৃষিক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগ (ইনভেস্টমেন্ট) বাড়ানো। দেশের জনসংখ্যার 50 শতাংশ কৃষিক্ষেত্রে যুক্ত, মোট জিডিপির 16 শতাংশ আসে কৃষি থেকে। কিন্তু সরকারের কৃষির জন্য বাজেট বরাদ্দ জিডিপি’র মাত্র 15 শতাংশ। এর মধ্যে পশুপালন মৎস্যপালন সব ধরা আছে।

    • মন্ডিতে ট্যাক্স কম করে কৃষকদের লাভ দিতে পারে।

    • কন্ট্র্যাক্ট ফার্মিং পুরোটাই খারাপ নয়। কিন্তু সরকার সেই কন্ট্র্যাক্টে থার্ড পার্টি হিসেবে সাইন করে কৃষক স্বার্থ দেখতে পারে, আশঙ্কা দূর করতে পারে, যেমনটি ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং ব্যবসায় ব্যাংক লোন দেবার জন্য 100 শতাংশ গ্যারান্টি দিয়েছে।

    • মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস নির্ধারণে স্বামীনাথন কমিটির রেকমেন্ডেশন পুরোপুরি মেনে সি-2 উৎপাদন ব্যয়ের উপর 150 শতাংশ বৃদ্ধির কথা ভাবতে পারে ।

     

    খাদ্য-সুরক্ষার প্রশ্ন:

    কারও কারও আশঙ্কা, চড়া লাভের লোভে যদি বেশির ভাগ কৃষিজমি ফুড ক্রপ (ধান-গম-জোয়ার-বাজরা) ছেড়ে ক্যাশক্রপ বা ইন্ডাস্ট্রির কাঁচামাল তৈরিতে লেগে যায় (সেই নীলচাষের মত), তাহলে ভারত আবার খাদ্য সুরক্ষা হারিয়ে ফেলবে না তো? চাল-গম রপ্তানির বদলে ষাটের দশকের মত আমদানি করার দিনে ফিরে যাবে না তো?

     

     পদী-ময়রাণীরা সব যুগেই থাকেন। কিন্তু সেই দুর্দিনে (ভগবান না করুন) আমরা নীলদর্পণের শিশুদের মত নেচে নেচে “ময়রাণী লো সই, নীল গেঁজেছ কই” বলার সাহস পাব তো?

     

     


    রঞ্জন রায় - এর অন্যান্য লেখা


    নিজেকে চিনতে পেরেছি, আমি কাল্লু। কিসসা শোনা যার নেশা

    ঘরে একুশদিনের স্বেচ্ছাবন্দী হয়ে রোজ রোজ ওই এক বা দু’টি চেহারা দেখে খিটখিটে হয়ে পড়েছেন?

    ভালবাসার কাঙাল সেই মানুষটি যিনি জাতপাত-ভাষা-ধর্মের বা দেশকালের বিভেদ মানতেন না

    নারীদিবস বছরে একদিন কেন? এটা আলাদা করে পালন করার দরকার কী? কই, ঘটা করে পুরুষদিবস তো হয় না!

    সরকার আগে মন্দার কথা অস্বীকার করলেও লকডাউন তাকে চলতি বছরে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে!

    সেলুলার জেলের নাম পালটে তাঁর নামে রাখা হল। এ বার দাবি তাঁকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া হোক।

    নিজের ভাল পাগলেও বোঝে, চাষিরা বোঝে না?-4thpillars