Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েই অতীতে সাফল্য পেয়েছে বামপন্থীরা

    রজত রায় | 27-11-2020

    কৃষক আন্দোলনের ছবি

    বাংলা, ত্রিপুরা গিয়েছে, কেরল মাত্র ভরসা। সারা দেশে কোণঠাসা, সদ্য বিহারে কিছুটা সাফল্য। এই অবস্থায় মরিয়া বামপন্থীরা যখন দেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছেন, তখন তাঁরা নিজেদের অতীতের দিকে একবার তাকাতে পারেন। বড় বড় তত্ত্ব কথা নয়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ নয়। গরিব মানুষের সঙ্কটে তার পাশে দাঁড়িয়েই স্বাধীন ভারতে বামপন্থীরা রাজনৈতিক সাফল্য পেয়েছিলেন – এমনকি দেশের শত্রু বলে আখ্যাত হওয়ার পরেও।

     

    দেশজুড়ে একটা বিচিত্র পরিস্থিতি চলছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদীয় রীতির তোয়াক্কা না করেএকের পর এক আইন বদলে, নতুন আইন এনে একদিকে তথাকথিত হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে, দেশের শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মেহনতি মানুষের অর্জিত অধিকার এক এক করে কেড়ে নিচ্ছে। এই অবস্থায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা পুরনো সব আইন বাতিল করে চাষিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে নতুন যে তিনটি আইন করা হয়েছে তা বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন। এখন তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিতে গিয়ে ধরনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেছেন। চাষিদের দিল্লিতে যাওয়া আটকাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পুলিশ গোটা রাজধানীকে ব্যারিকেডে ব্যারিকেডে ঘিরে কড়া পাহারা বসিয়েছে। যে সব রাজ্যে বিজেপি এবং তাদের এনডিএ জোটের শরিকরা ক্ষমতাসীন, সেই সব রাজ্যের পুলিশ কৃষকদের দিল্লি অভিযান রুখতে বলপ্রয়োগ করতে ইতস্তত করছে না। টেলিভিশনের পর্দাতেই দেখা যাচ্ছে, হরিয়ানায় একাধিক জায়গায় আন্তঃ রাজ্য সড়ক কেটে বিশাল খালের মতো বানিয়ে ফেলে পাহারা দিচ্ছে পুলিশ। উদ্দেশ্য, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের চাষিরা যাতে ট্রাক্টর নিয়ে দিল্লিতে ঢুকে পড়তে না পারে। একাধিক জায়গায় পুলিশের কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও জলকামান অগ্রাহ্য করে তাদের পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে ট্রাক্টর বোঝাই হয়ে দিল্লি অভিমুখে এগোতে দেখা যাচ্ছে।

     

     

    লাল ঝাণ্ডা চোখে পড়ছে মানুষের আন্দোলনে

    পাশাপাশি, বেশ ক’টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন যৌথভাবে বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, তাতেও মোটামুটি ভালো সাড়া মিলেছে। এই সব ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান দাবি, শ্রমিকদের কাজের সময় আট ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে 12 ঘণ্টা করার সরকারি উদ্যোগ বাতিল করতে হবে, দেশের যে সব পরিবার আয়করের আওতার বাইরে, তাদের জন্য করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে মাসে মাসে 7500 টাকা নগদে দিতে হবে, এই সব পরিবারকে মাসে 10 কেজি করে খাদ্যশস্য বিনামূল্যে দিতে হবে ইত্যাদি। ধর্মঘট সফল করতে বাম কর্মী সমর্থকরা কেরল, পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যেই রাস্তায় নেমে গণপরিবহন বন্ধ করতে সক্রিয় হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ভাবে ও জনসমর্থনের দিক থেকে কোণঠাসা বামপন্থীরা রেলপথ অবরোধ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছেন। সড়ক পরিবহণেও ধর্মঘটীদের প্রভাব টের পাওয়া গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের এই রাস্তায় নেমে সংঘর্ষ করতে দেখে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরিচিত লেখক ও সমাজকর্মী ইমানুল হক ফেসবুকে পোস্ট করে বলেছেন—‘গত 10 বছরের নিরিখে এবারের সাধারণ ধর্মঘট অনেকটাই সফল। বামেরা রাস্তায়, তূণমূল সক্রিয় বিরোধিতা করেনি। ভালো লক্ষণ।’

     

     আরও পড়ুন- 

    নিজের ভাল পাগলেও বোঝে, চাষিরা বোঝে না?

     

     

     

    কংগ্রেসের আইএনটিইউসি, সিপিআইয়ের এআইটিইউসি, সিপিএমের সিটু এবং সমাজতন্ত্রীদের হিন্দ মজদুর সংঘের একযোগে ডাকা ধর্মঘটে রাস্তায়, রেললাইনে অবস্থানকারী ধর্মঘটীদের মধ্যে লাল ঝান্ডার উপস্থিতি ভালোই চোখে পড়ছে। তেমনই দিল্লি অভিমুখে পদযাত্রা করে চলা চাষিদের অনেকের হাতেও লাল ঝান্ডা দেখা যাচ্ছে। তাই বামপন্থীদের উচ্ছ্বাস স্বাভাবিক। অতি উৎসাহে কেউ কেউ এমনও ভাবতে শুরু করেছেন যে এখান থেকেই সম্ভবত বামেরা আবার রাজনৈতিক লড়াইয়ের সামনের সারিতে উঠে আসবেন।

     

     

    ছয়ের দশকের দিকে ফিরে দেখা

    এই ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে খতিয়ে দেখার আগে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের দিকে একবার ফিরে দেখা যেতে পারে। প্রায় ৬০ বছর আগের কথা। 1962 সালের অক্টোবরে আচমকাই ভারতের সঙ্গে চিনের সীমান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। চিনা সেনাবাহিনী কোনও আগাম হুঁশিয়ারি ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকতে থাকে। অসমের দিকে তো তারা বমডিলা পর্যন্ত চলে আসে। তার পর একতরফা ভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে নিজেদের দেশে ফিরে যায়। ওই ঘটনায় হতচকিত ভারতের সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে চিনের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্বেষের মনোভাব তৈরি হয়। অন্যদিকে, কমিউনিস্ট পার্টি সমাজতন্ত্রী চিনকে সমর্থন করা বা বিরোধিতা করার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। ডাঙ্গের নেতূত্বে একাংশ প্রকাশ্যেই চিনের নিন্দা করে ও ভারত সরকারের পাশে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, জ্যোতি বসু, প্রমোদ দাশগুপ্তের মতো আর এক দল কমিউনিস্ট নেতা চিনের সমালোচনা করতে বেঁকে বসেন। তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল, সমাজতন্ত্রী চিন অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে আক্রমণ করতে পারে না। তা ছাড়া হিমালয়ের অত উঁচুতে কী ঘটছে, তা না জেনে কোনও অবস্থান নেওয়া যায় না। এক কথায়, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি তখন চিনপন্থী ও রুশপন্থী হিসাবে চিহ্নিত, গোড়ায় এখনকার সিপিএমকে সংবাদমাধ্যমে সিপিআইএল (এল অর্থাৎ লেফট বা বামপন্থী) বলে বর্ণণা করা হত। পরে, সম্ভবত 1965 সালে কেরালার পুর নির্বাচনের সময় তারা নিজেদের সিপিআই(এম) নামে পরিচয় দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত করে। শুরু করে।

     

       আরও পড়ুন- 

       নতুন কৃষি আইন: ফড়েরা যা হারাবে তা কি চাষি পাবে?

     

    এ দিকে সিপিএমের নেতারা অধিকাংশই 1962 সাল থেকেই ভারত রক্ষা আইনে (Defence of India Rule বা DIR) কারান্তরালে চলে গেছেন। জ্যোতি বসু, প্রমোদ দাশগুপ্ত থেকে শুরু করে দলের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সবাই ধরা পড়েছেন। চিনপন্থী তকমা গায়ে সেঁটে যাওয়া সিপিএমের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের তখন চিনের দালাল, দেশের শত্রু ইত্যাদি বলে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। অথচ তার মাত্র কয়েক বছর পরেই 1967 সালে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে বামপন্থীরা কংগ্রেসকে হারিয়ে প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়। 1967 থেকে 1977 পর্যন্ত নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে শেষে 1977 সালে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠন হয়। তার পরের ইতিহাস সবার জানা।

     

     

    যেটা বিস্ময়কর, তা হল চিনের দালাল ও দেশের শত্রু বলে চিহ্নিত বামপন্থীরা এত অল্প সময়ের মধ্যে কী করে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে পাদপ্রদীপের সামনে এসে দাঁড়াতে পারল, সেটা তলিয়ে দেখা দরকার। মনে রাখতে হবে, 1962 সালে চিনের সঙ্গে এবং 1965 সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতকে যুদ্ধ করতে হয়েছে। মাত্র তিন বছরের মধ্যে দু’দুটি যুদ্ধের ধাক্কায় গোলাবারুদ আমদানি করতে গিয়ে ভারত তার বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয় শেষ করে ফেলতে বাধ্য হয়েছিল। তখনও ভারতে সবুজ বিপ্লব হয়নি, খাদ্য উৎপাদনের দিক থেকে ভারত তখন ঘাটতি দেশ। সেই পরিস্থিতিতে 1965 সালের নভেম্বরে কৃষিবিশেষজ্ঞরা কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে দেন, যে খারিফ ফসলের উৎপাদন সে বছর কম হবে। তার ফলে ঘাটতি আরও বেশি হবে। সরকার তখন দ্রুত খাদ্য আমদানি করে ঘাটতি মেটানোর জন্য বহির্বিশ্বের দিকে তাকাতে বাধ্য হয়। বিদেশি মুদ্রা না থাকায় নগদে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাল গম কিনতে পারছিল না ভারত।

     

      আরও পড়ুন-

     কেন পশ্চিমবঙ্গের গরিব কৃষক গরিবই থেকে যায়

     

    অগত্যা সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকার কাছে সাহায্য চাইল দিল্লি। রাশিয়া দুই জাহাজ গম পাঠাল, আমরিকা পি এল 480 আইনের আওতায় খাদ্যশস্য দিতে রাজি হলেও তলায় তলায় অন্য সুবিধা আদায় করতে (সম্ভবত, ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সেনা ও বিমানবাহিনীকে কিছু সুবিধা দিয়ে সাহায্য) গমের জাহাজ পাঠাতে দেরি করতে লাগল। অবশেষে যখন মার্কিন জাহাজ গম নিয়ে ভারতের বন্দরে ভিড়তে উদ্যত, ততদিনে দেরি যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। চাল ও কেরোসিনের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের বহু জায়গায় আগুন জ্বলা শুরু হয়েছে। খাদ্য আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে। ইচ্ছে থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার সময়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োজনীয় চাল ডাল গম ও কেরোসিন পাঠাতে পারেনি।

     

    বামপন্থী নেতা অনেকেই তখনও ডিআইআর-এ জেলবন্দি। পশ্চিমবঙ্গে প্রবীণদের মধ্যে সমর মুখোপাধ্যায় ও গণেশ ঘোষের মতো হাতে গোনা কয়েকজন আত্মগোপন করে পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বড় নেতারা না থাকলেও দলের এক ঝাঁক তরুণ নেতা রাস্তায় নেমে ওই খাদ্য আন্দোলনের নেতূত্ব দেন। তাঁদের মধ্যে শ্যামল চক্রবর্তী, সুভাষ চক্রবর্তী, তড়িৎ তোপদার, কান্তি গাঙ্গুলি, গোপাল ভট্টাচার্যদের নাম ছিল প্রথম সারিতে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই লড়াইয়ের পরিণতিতেই মানুষ ওই চিনের দালালদেরই ভোট দিয়ে সমর্থন জানাল। 

     

    খোলা চোখে খোলা মনে বাস্তবকে মানতে হবে

    এখন বামপন্থীরা যখন রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা, ভোটেও ক্রমশ জনসমর্থন কমছে, তখন ফের রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলে কিছুটা ইতিবাচক ফল হতেই পারে। কিন্তু সরকার বিরোধী আন্দোলন করাটাই যথেষ্ট নয়। আগেই বলেছি, 1966 সালে খাদ্য আন্দোলনের সময় কংগ্রেস সরকারের হাতে রাজ্যকে দেওয়ার মতো খাদ্যশস্য ছিল না, রাতারাতি আমদানি করার মতো বিদেশি মুদ্রাও হাতে ছিল না। অন্যদিকে, কমিউনিস্টদের সঙ্গে ছিল বিপ্লবের স্বপ্ন, ছিল রাশিয়ার নভেম্বর বিপ্লব ও চিনের বিপ্লবের উদাহরণ। সমাজতন্ত্র ও সর্বহারার একনায়কতন্ত্রের নামে ওই দুই দেশে যে স্বৈরতন্ত্র জাঁকিয়ে বসেছে, সে ব্যাপারে তখনও ভারতীয়রা ওয়াকিবহাল নন। (1991 সালে গোর্বাচেভকে সরিয়ে ইয়েলৎসিন ক্ষমতায় এসেই কমিউনিস্ট পার্টিকে বেআইনি ঘোষণা করার পরে দিল্লিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় নেতূত্বের তরফে হরকিষেণ সিংহ সুরজিৎ সাংবাদিকদের সামনে স্বীকার করেন, বহুবার সোভিয়েত ইউনিয়নে গেলেও সে দেশের সমাজের ভিতরে যে এত অবক্ষয় জমেছিল, তার কোনও আঁচই তাঁরা পাননি। এ কথা বলার পরেই সুরজিতের মন্তব্য ছিল, ‘আর কখনও কনডাক্টেড ট্যুরে যাব না।’)

     

    এখন সমাজতান্ত্রিক দুনিয়া নেই। রাশিয়া ও চিন পুঁজিবাদী পথে পা ফেলছে। চিন বা রাশিয়ার মডেলে ভারতে সশস্ত্র বিপ্লব করার কথা এখন আর কমিউনিস্টরা ভাবেন না। একমাত্র মাওবাদীরাই এখনও পাহাড় জঙ্গল অধ্যুষিত মধ্য ভারতের আদিবাসী এলাকায় সশস্ত্র বিপ্লবের মহড়া দিচ্ছে ও ক্রমাগত রক্তক্ষরণের ফলে দুর্বল হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে তাই বিপ্লব, সমাজতন্ত্র ইত্যাদির স্বপ্নের কথা বলে আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। বরং সমাজতন্ত্রের নামে যা হয়েছিল, কেন তা ভুল পথে চালিত হল, তা নিয়ে এদেশের কমিউনিস্টদের কাছ থেকে চুলচেরা বিশ্লেষণ এখনও মানুষ পায়নি। একই ভাবে ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও কেন শহরে ও গ্রামে দারিদ্রমোচনের জন্য তেমন কিছু করা হয়নি, সেটাও মানুষের কাছে খুলে বলা দরকার।

     

     আরও পড়ুন- 

    তোমরা চাষা, আর আমি বেচু খাসা

     

    বামফ্রন্ট সরকারের প্রথম 10 বছরের শাসনকালে (1977-1987) পর্যন্ত যে জনমুখী চিন্তা ভূমিসংস্কার, বর্গাদারদের উচ্ছেদ ঠেকানোর ব্যবস্থা, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত গড়তে সাহায্য করল, তা পরের দুই দশকে কোথায় হারিয়ে গেল? 1977 সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে জ্যোতি বসু ও অন্যান্য নেতারা বার বার বলতেন, কেন্দ্রীয় সরকারে তাঁরা নেই, অঙ্গরাজ্যে সীমিত ক্ষমতায় থেকে সাধারণ মানুষকে সামান্য রিলিফ দেওয়া ছাড়া আর কিছু করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁরা এটা বলতেন, কারণ তাঁরা মনে করতেন একদিন বিপ্লব হবে, তখন সমস্যাগুলির মৌলিক বা স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে। এখন অবশ্য তাঁরা ওই সুরে কথা বলেন না। কিন্তু তাই বলে পুরনো বুলির মাছি তাড়ানো বন্ধ হয়নি। এখন দেশে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যগুলির মধ্যে উন্নয়নের ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রের উত্থান হচ্ছে, বামপন্থীদের তা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত। দরকার কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত এবং সমস্ত মেহনতি মানুষের স্বার্থে নতুন চিন্তা সম্বলিত কর্মসূচি। তার সঙ্গে রাস্তায় নেমে আন্দোলন যোগ করতে পারলে আবারও বাম রাজনীতি মাথা তুলতে পারে।

     


    রজত রায় - এর অন্যান্য লেখা


    80 কোটি দেশবাসীকে তিন মাসের রেশন বিনা পয়সায় দিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। 

    সল্টলেক, লেকটাউন প্রভৃতি উচ্চ ও মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত এলাকা বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত। ছেলে মেয়েরা বিদেশে

    মোদীর দীপাবলী দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    “নিরন্ন, কর্মহীন” বইটি আমাদের চারপাশের এই সব বিপন্ন মানুষদের চিনিয়ে দিয়ে আমাদের সামনেই আয়না ধরেছে

    দেশের বর্তমান পরিস্থিতি  এক কথায় প্রায় নজিরবিহীন। দেশজুড়ে এখন নাগরিকত্ব আইন বা সি এ এ, এন আর সি  এবং

    নতুন নাগরিকত্ব আইন, এন আর সি এবং এন পি আর এর বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে আজ যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা এক কথায়

    বঞ্চিত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েই অতীতে সাফল্য পেয়েছে বামপন্থীরা-4thpillars