Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • অন্নদাতা বনাম জুমলাদাতা

    4thPillars ব্যুরো | 10-12-2020

    অন্নদাতা বনাম জুমলাদাতা শীর্ষক ফেসবুক লাইভের আলোচনায় বিশিষ্টরা

    দেশের রাজধানী কার্যত অবরুদ্ধ করে দিনের পর দিন রাস্তায় বসে রয়েছেন কৃষকরা। দাবি, নতুন কৃষি আইন প্রত্যাহার। আলোচনায় বসতে বাধ্য হলেও নতি স্বীকার করছে না সরকার। এই নিয়েই গত 9 ডিসেম্বর (বুধবার) www.4thpillars.com একটি আলোচনার আয়োজন করেছিল। এই আলোচনায় সাংবাদিক সুদীপ্ত সেনগুপ্তের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রজত রায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সমীর দাস এবং অধ্যাপক অশোক সরকার।

     

     

    1) গণতন্ত্রে কোনও বড় নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া কী? গত 6 বছরে সরকার মাত্র 2 বার আলোচনায় যেতে বাধ্য হয়েছে, প্রথমবার জিএসটি লাগু করার সময়। দ্বিতীয়বার চলতি কৃষক আন্দোলনে লাগাম পরাতে। এছাড়া গত 5-6 বছরে যত গুরুত্বপূর্ণ নীতি বদল হয়েছে, তার মাত্র 25 শতাংশ সিলেক্ট কমিটিতে গেছে। এই লোকসভায় একটাও বিল এখনও সিলেক্ট কমিটিতে যায়নি।

     

    2) নয়া তিনটি কৃষি আইনে একটা পরিষ্কার অভিমুখ বোঝা যাচ্ছে। তা হল, খোলা বাজারকে খোলা ভাবে খেলতে দিতে হবে। যে ধরনের নীতি কৃষিতে ছিল তার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উৎপাদন এবং বিক্রির মধ্যে যে নিয়ন্ত্রণ আছে, তা তুলে নিতে হবে। কিছু জরুরি দ্রব্যকে অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের তালিকায় ফেলে দিতে হবে।

     

    3) কৃষকরা প্রত্যেকবার কথা বলতে গিয়ে বলিষ্ঠ ভাবে সরকারের কথা প্রত্যাখ্যান করছেন। আন্দোলনকারীদের যে দৃঢ়তা দেখা যাচ্ছে সেটা একটা বৈশিষ্ট্য বলা যায়। এই আন্দোলনের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের পা কিন্তু কেঁপে গিয়েছে। অতীতের আন্দোলন গুলোর মতো প্রলোভন কিংবা দমনপীড়নের মাধ্যমে সামগ্রিক আন্দোলনকে ভেস্তে দিতে পারেনি সরকার পক্ষ।

     

    4) জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভ প্রশমনে সংসদীয় রাজনীতি যথেষ্ট নয় বলে মনে হচ্ছে। সংসদীয় রাজনীতির মধ্যে গণতন্ত্রও আর সীমিত নয়। ফলে জনপ্রতিনিধি এবং জনতার মধ্যে একটা বিচ্ছেদ ঘটছে। যেমন এখন কৃষকরা যা বলছে তা হয় সাংসদরা শুনতে পাচ্ছেন না, নইলে তারা সেটা ব্যক্ত করতে পারছেন না। সাংসদরা আবার রাজনৈতিক দলের সদস্যও বটে। সব মিলিয়ে কোথাও একটা বিচ্যুতি ঘটছে।

     

    **যে কৃষকরা এখানে এসেছেন তাদের অধিকাংশই সম্পন্ন কৃষক। এই আন্দোলনে ভূমিহীন কৃষকরা কতটা যুক্ত জানা নেই। তবে ভারতের প্রত্যেক জায়গার কৃষকরা যে একসঙ্গে আছেন তা বোঝা যাচ্ছে। তাদের অস্তিত্ব কতটা গুরুতর তা কৃষকরা প্রতি মুহূর্তে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

     

    5) কৃষি শ্রমিকদের আলাদা শ্রেণি হিসেবেই দেখা উচিত। তাদের বাদ দিয়ে একটা বৃহৎ অংশ মাঝারি এবং ক্ষুদ্র চাষি, এই কৃষি বিলের প্রভাব তাদের ওপরেও পড়বে। ফলে শুধুই যে সম্পন্ন কৃষকরা যোগ দিয়েছেন এই আন্দোলনে তা কিন্তু নয়। এই মাঝারি এবং ক্ষুদ্র চাষিরাও অংশ নিয়েছে এই আন্দোলনে।

     

    6) সরকার কীভাবে কৃষকদের এই ক্ষোভকে প্রশমিত করবেন, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না। কৃষকদের দাবি মেনে বর্তমান কৃষি আইন বাতিল করে নতুন খসড়া আইন সংসদে আনা যেতে পারে। বস্তুত, কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন ঠিকই, কিন্তু এইরকম সংস্কার কৃষকরা চান না। সরকারের উচিত তাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে নতুন আইন আনা। সরকার এখনও অনমনীয় অবস্থান নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সরকার পক্ষ এখন আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভাজন তৈরির মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।

     

     


    4thPillars ব্যুরো - এর অন্যান্য লেখা


    ক্যাওসের মধ্যে থেকে বুঝতে হবে, নগরজীবনের মধ্যে থেকে বুঝতে হবে।

    বিধানসভা ভোটে বাংলায় তিন পক্ষই ইস্তেহারে নিজেদের মতো করে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিল

    করোনার বিরুদ্ধে লড়াইটা মন্ত্রশক্তি দিয়ে জেতা যাবে না।

    Covid-19 নিয়ে আলোচনায় ডা: কৌশিক মজুমদার

    কবিতা তার জ্যান্ত লাশ, কার?

    অন্নদাতা বনাম জুমলাদাতা-4thpillars