Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • প্রকৃতির খেয়াল নয়, বন্যার জন্য মানুষও দায়ী

    শুভস্মিতা কাঞ্জী | 18-08-2020

    প্রতীকী ছবি।

    ভাগীরথী, না পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা গঙ্গা নয়, উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়াগে যেখানে ভাগীরথী আর অলকানন্দা মিশে গঙ্গা নামে বইতে থাকে, সেই উত্তরাখণ্ডের ভাগীরথীর কথা বলছি, যা গোমুখ থেকে নেমে এসেছে। সেই ভাগীরথী নদী বিগত বেশ কিছু বছর ধরে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। বেড়ে গিয়েছে বন্যাফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই এলাকার মানুষের জীবন। কিন্তু কেন এই পরিবর্তন? এর মূলে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন। প্রসিদ্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালজিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ আটজন গবেষকের একটি গবেষণা পত্রে এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছেগবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মুম্বাই আইআইটির অধ্যাপক সুবিমল ঘোষ। 

     

    উত্তরাখণ্ডের ভাগিরথী

    দের গবেষণার মতে, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে পশ্চিম হিমালয়ের হিমবাহগুলো দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে বাড়ছে বৃষ্টি। অতিবৃষ্টি এবং হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে পশ্চিম হিমালয়ের বেশ কিছু নদীতে বেড়েছে জলপ্রবাহের পরিমাণ। জলপ্রবাহ বাড়লেও নদীর জলধারনের ক্ষমতা বাড়েনি, ফলে বাড়ছে বন্যা। প্লাবিত হচ্ছে নদীর দুই ধার। ভাগীরথী সহ উত্তর পশ্চিম ভারতের বেশ কিছু নদীতে গত দশ বছরে বন্যার সংখ্যা ভয়াবহ ভাবে বেড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, যেহেতু এই অঞ্চলগুলো অত্যন্ত খাড়াই, ঢাল অনেক বেশি তাই হড়কা বানের সংখ্যাও বাড়ছে উত্তরোত্তর। ফলে বাড়ছে প্রাণহানি, ঘটছে ক্ষয়ক্ষতি। 2010 থেকে 2020, দশ বছরের মধ্যেই এই অঞ্চলে পাঁচটি ভয়ঙ্কর বন্যা ঘটে গিয়েছে, প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের। ঘর, চাষের জমি হারিয়েছেন অনেকে। এই দশ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের কোথাও 25 শতাংশ বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পেয়েছে, কোথাও আবার 100 শতাংশই তাই নদী সেই অতিরিক্ত জলগুলো ধারণ করতে না পারায় বন্যা ঘটাচ্ছে। 2019 এর কাশ্মীরের বন্যার স্মৃতি এখনও তাজা আমাদের মনে। কীভাবে বাড়ি, গাড়ি সেই বন্যার জলে খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। 2013 সালের উত্তরাখণ্ডের স্মৃতিও ভোলবার নয়। এই বন্যাগুলোর কারণ দেখতে গিয়েই আইআইটি মুম্বাই এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হাইড্রোলজি-র 8 জন গবেষকের দল তাঁদের গবেষণায় জানতে পারেন, এর নেপথ্যে রয়েছে অতিবৃষ্টি- যা ঘটছে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে। এই দলে সুবিমল ঘোষ ছাড়াও ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হাইড্রোলজির প্রাক্তন অধিকর্তা শারদ জৈন এবং সঞ্জয় জৈন, জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ.দিমরি সহ আরও 2 জন। সুবিমল ঘোষকে এই বন্যার প্রধান কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ‘এই অঞ্চলের ঢাল ভীষণ খাড়াই, তাই একটু বেশি বৃষ্টি হলেই হড়কা বানের সম্ভাবনা থাকে। এবং ইদানিং সেটা আরও বেড়েছে।' কিন্তু কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করা যাবে জানতে চাইলে সুবিমল ঘোষ জানান, ‘নিখুঁত ভাবে বন্যার পূর্বাভাস দিতে হবে। তবেই সেখানকার স্থানীয় মানুষদের সেই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।'

     

    সুবিমল ঘোষ

    শুধু সুবিমল ঘোষেদের গবেষণা পত্রই নয়, এই একই দাবি করেছেন খড়গপুর আইআইটি-র অধ্যাপক রাজীব মাইতি এবং তাঁর এক পিএইচডি-র ছাত্র ময়াঙ্ক সুমন। "নেচার' গ্রুপের বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টস-এ তাঁদের সদ্য প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণা পত্রেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের গবেষণা পত্র থেকে জানা যায়, 1980 থেকে 1991 এই এগারো বছরের মধ্যে পশ্চিম হিমালয়ে অতিবৃষ্টির ঘটনা বেড়েছে অনেকাংশেই। বর্ষা এবং শীত, এই দুই ঋতুতেই অতিবর্ষণ ঘটছে এই এলাকায়। এর কারণ হিসেবে তাঁরা দাবি করেছেন সেই বিশ্ব উষ্ণায়নকেই। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে। পূর্ব ভারত মহাসাগর অর্থাৎ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার দিকের তুলনায় পশ্চিম ভারত মহাসাগর অর্থাৎ আরব সাগরের দিকে তাপমাত্রা বেশি বাড়ছে, একই সঙ্গে ভারত মহাসাগরে ডাইপোলার পরিবর্তন ঘটছে। এই দুইয়ের ফলে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার থেকে মেঘ তৈরি হচ্ছে। এবং এটাই মৌসুমী বায়ুকে শক্তিশালী থেকে আরও শক্তিশালী করে তুলে দক্ষিণ ভারতে অতিবর্ষন ঘটাচ্ছে। তাই শুধুই পশ্চিম হিমালয়ের নদীগুলোতেই নয়, দক্ষিণ ভারতের রাজ্য যেমন, কেরালা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশের নদীগুলোতেও বাড়ছে জলপ্রবাহের পরিমাণ, বাড়ছে বন্যাও। আগামী দিনে তা আরও বাড়বে বলেই তাঁদের এই গবেষণাপত্রের দাবি। রাজীব মাইতি জানান, ‘পশ্চিম ঘাট অঞ্চল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই অতি ভারী বৃষ্টির ফলে, যদিও নির্দিষ্ট ভাবে কোনও একটি বা দুটি নদীর নাম বলা যাবে না। তাঁর মতে তবে এই সমস্যার সঙ্গে আমরা দুভাবে মোকাবিলা করতে পারি, প্রথমত কাঠামোগত, দ্বিতীয়ত নন-স্ট্রাকচারাল ভাবে। এই কাঠামোগত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উনি বলেন, বাঁধ নির্মাণ করা যেতে পারে, রিভার ডাইক তৈরি করা যেতে পারে, নদীর পলি সরিয়ে তাকে আরও গভীরতর করা যেতে পারে- যাতে তার জল ধারণের ক্ষমতা বাড়ে প্রভৃতি। এছাড়াও, বন্যার সঠিক পূর্বাভাস দেওয়া, স্থানীয় মানুষদের সচেতন করলে এই সমস্যার থেকে খানিক নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তিনি।

     

    রাজীব মাইতি

    সদ্য প্রকাশিত এই দুই গবেষণাপত্র যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে অনেক ক্ষতিই হচ্ছে যার মধ্যে কিছু প্রকট, আবার কিছু তেমন ভাবে বোঝা যায় না, ধীর লয়ে ক্ষতি করে। উষ্ণায়নের পিছনে মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। জ্বালানি এবং পশুপালন থেকে কার্বন নিঃসরণ, সিএফসি (ক্লোরোফ্লুরোকার্বন) জাতীয় কিছু রাসায়নিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ওজোন স্তরের ক্ষতি বিশ্ব উষ্ণায়নে সরাসরি মানুষেরই অবদান। এই ভাবে যদি অতিবর্ষন এবং বন্যার সংখ্যা বাড়তে থাকে, তবে প্রাণহানির সঙ্গে ফসল ক্ষতির পরিমাপও বাড়বে। বাড়বে অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি। ফলে এখনই সচেতন হয়ে সঠিক পদক্ষেপ, যেমন বন্যার সঠিক পূর্বাভাস (যা দুই গবেষকই বলেছেন) করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে এই বন্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।

     

     


    শুভস্মিতা কাঞ্জী - এর অন্যান্য লেখা


    বর্ষশেষের আগের রাতে রূপম ইসলাম তাঁর ভক্তদের উপহার দিয়ে গেলেন এক অনন্য সঙ্গীতময় সন্ধ্যা।

    এবারের দীপাবলি ধোঁয়াহীন রাখার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে খুশি চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

     বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা এভাবে চললে একদিন স্থির হয়ে যেতে পারে মঙ্গলগ্রহ।

    দু’জন অপরিচিত মানুষ একই স্বপ্ন দেখতে পারেন? সম্ভব সেটা?

    পৃথিবীর থেকে প্রায় 930 কোটি আলোকবর্ষ দূরে সম্প্রতি প্রাচীনতম ছায়াপথ আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    ফ্লিপকার্ট জানায় যে নাগাল্যান্ড ভারতের বাইরে বলে সেখানে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব না।

    প্রকৃতির খেয়াল নয়, বন্যার জন্য মানুষও দায়ী-4thpillars