Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • বঙ্গীয় দাদা একুশে দাদা-জ্বি হলেন!

    বিতান ঘোষ | 09-01-2021

    বঙ্গের দাদা'জ্বি'-রা এখন গেছো দাদাকেও হার মানান। ক্ষণে ক্ষণে বদলায় তাদের দল, অবস্থান, পোশাক, এমনকি মুখের ভাষাও।

    নতুন বছরে সবে পা দিয়ে ঘটনাবহুল 2020 সালের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলোর কথা স্মরণ করছিলাম। এই বছর অনেক পার্শ্বচরিত্র থাকলেও, কেন্দ্রীয় চরিত্র অবশ্যই করোনা৷ তার আশেপাশে থাকতে পারে কোভিড ভ্যাকসিন, জো বাইডেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, গ্রেটা থুনবার্গ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রমুখরা। বাংলার দিকে চোখ বুলিয়ে দেখলাম, সেখানে এই করোনাকালেও চরিত্রের এত ভিড় যে, তার মধ্যে থেকে কেন্দ্রীয় চরিত্র বেছে নেওয়া মঙ্গলে জল খুঁজে পাওয়ার থেকেও দুঃসাধ্য ব্যাপার। তবে অনেক খুঁজে পরশপাথর পাওয়া গেল। বিশ-একুশের সন্ধিক্ষণে বঙ্গের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছেন দাদারা



    অতীতে বাঙালির একটা গেছো দাদা ছিল, যিনি সময়ে সময়ে নিজের ঠিকানা থুড়ি গাছ বদল করতেন। কেউ তার টিকিটিও ছুঁতে পেত না। বাঙালির নব্য দাদারা টারজান নন, তাই তারা গাছ বদল করেন না ঠিকই, তবে দল বদল করেন। বাঙালির দুর্ভাগ্য যে, তার রত্নভান্ডারে এখন একটাও সুকুমার রায় নেই, তাই দাদাদের এমন হ-য-ব-র-ল কীর্তি দেখেও আমরা গম্ভীর গম্ভীর আলোচনা করছি, তর্কবিতর্ক জুড়ছি, পেটে খিল দিয়ে হাসছি না। সে হাসি অট্টহাসি, নাকি মুচকি হাসি, নাকি ফিচেল হাসি, নাকি বাঁকা হাসি- তা নিয়েও ভাবছি না! অতীতে বাঙালির একজন টেনিদাও ছিলেন, যিনি চাটুজ্জেদের রোয়াকে বসে আকাশকুসুম বক্তিমে দিতেন। সেই বক্তৃতায় নিজেকে জাহির করতে বিন্দুমাত্র কসুর করতেন না টেনিদা। তবে তাঁর মোটে তিনজন শাগরেদ ছিল। পটলডাঙার টেনিদার আজকের দাদাদের মতো হাজার হাজার অনুগামীও ছিল না, আর শহরজোড়া ফ্লেক্স ব্যানারও ছিল না। যদি ঢাকাইয়া হাবুল সেনকে দিয়ে, ‘আমরা টেনিদার অনুগামী কইসিফ্লেক্স লাগানো যেত, কিংবা প্যালারামকে দিয়ে টেনিদা তুমি এগিয়ে চলো, আমরা তোমার সঙ্গে আছিস্লোগান দেওয়ানো যেত, তবে হয়তো প্রচারমাধ্যমে কিছু কল্কে পাওয়া যেত। এখনকার দাদাদের মতো সুনিপুণ প্রচারকৌশল বাংলার আগেকার দাদাদের ছিল না



    বঙ্গের দাদারা কী ছিলেন আর কীই না হইয়াছেন— ভাবলেও অবাক হতে হয়। আসলে সর্বক্ষণ দিদি দিদি রবে দাদারা অফস্টাম্পের বাইরে চলে যাচ্ছিলেন। শেষে হম কিসিসে কম নেহি বলে তারাও বেরিয়ে পড়লেন হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা হয়ে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুগামী মূষিককূল দাদাদের বাঁশির সুরে জড়ো হতে থাকল। দাদারাও অ্যাড্রিনালিন রাশে বাঁশিতে আরও জোরে ফুঃ দিতে লাগলেন। তবে গর্বের বিষয় হচ্ছে, বঙ্গের নব্য দাদারা কিন্তু ভীষণই সাবঅল্টার্ন, মানে ওই প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি আর কী। তারা পান্তাভাত খান, এখনও সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠেন। এতগুলো দুরন্ত ভাইকে সামলেও কিন্তু দাদাদের গেঁটেবাত হয় না। চড়াই-উৎরাইকেই তারা জীবনের ধ্যানজ্ঞান করেছেন। দাদারা পদলোভী নন, কিন্তু ভাগ্যক্রমে নানা পদ তাদের এমনিই Jute-এ যায়



    ভাইদের অবশ্য অভিযোগ, ইদানিং দাদারা কেমন যেন বদলে যাচ্ছেন। দাদারা নাকি কীসব হিন্দি মেশানো বাংলায় হিজিবিজ বকছেন, যা ভাইদের মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। দাদারা এখন অন্যদের দাদাবলে ডাকেন না, নামের পাশে একটা জ্বিজুড়ে দেন। ভাইপোকে ভাতিজাবলেন, পিসিকে বুয়াবলেন, সরস্বতী পুজোকে বাসন্তী পুজোবলেন। এক ভাই, দাদার ঘনিষ্ঠ এক ভাইকে দাদার এই বদলে যাওয়া নিয়ে দুঃখ করায়, সেই ভাই অপর ভাইকে বলেছিল, এসবই দাদা করছে তার নিজের এবং আমাদের সকল ভাইদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার জন্য। শরদিন্দুর বরদা শুধু ভূত নিয়ে ভাবত, বাংলার দাদারা এখন শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে। হুঁ হুঁ বাওয়া, একেই বলে উন্নতি



    এককথায় বলা চলে কারণে-অকারণে বাংলা এখন দাদাময়। যে দাদার যত বেশি চ্যালা, সেই দাদার তত বেশি কদর। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে রাজ্যের সব ভাইবোনরাই তো আর দাদাদের কৃপাধন্য নয়। যারা কখনও দাদার কাছ থেকে কলাটা মূলোটা পায়নি, তারা খামোকা এই দাদাগিরি মানবে কেন? তারা বলছে এই দাদাকে আমরা চিনি না, মানিও না। বোঝো ঠ্যালা! সেদিন রাস্তায় জনৈক দাদার এক পুরনো ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। জিজ্ঞাসা করলাম, দাদার সঙ্গে এখনও আছো তো? চারদিকটা একবার দেখে নিয়ে সে আমার পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল৷ বলল, ‘আমরা দাদা-দিদি কারও সঙ্গে নেই। দাদা, আমরা বাঁচতে চাই।' কারও মুখে দাদাসম্বোধনে ভারী পুলকিত হলাম। এই ভেবে ভাল লাগল যে, শতসহস্র "অনুগামীনিয়ে দাদাদের ভিড়ে উজ্জ্বল নাই বা হলাম, আমিও কিন্তু মেঘে ঢাকা দাদা! আপাতত সান্ত্বনা পুরস্কারই সই!


    বিতান ঘোষ - এর অন্যান্য লেখা


    ক্ষমতা প্রয়োগ করে মহামারীর মোকাবিলার সঙ্গে আইনগত এবং নৈতিক দায়িত্বও পালন করাও উচিত কেন্দ্রের।

    ঈশ্বরী পাটনি কি মা অন্নপূর্ণার কাছে দুধভাতের আবদার না জুড়ে ফুটেজের আবদার জুড়েছিলেন?

    মানুষের মনোলোকে আড়ি পাতা ফেসবুকের অন্তর্লোকে আলো ফেলবে এই বই।

    সমাজের প্রান্তিক মানুষদের অধিকার রক্ষায় পার্থ সারথি বরাবরই সরব।

    বহু সঙ্কটেও মানুষকে বেঁচে থাকার শিক্ষা দিয়ে গেল 2020।

    আজকের ভারতবর্ষে দলিতদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার মতো কোনও নেতাকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

    বঙ্গীয় দাদা একুশে দাদা-জ্বি হলেন!-4thpillars