Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • মেলবোর্ন, তুমি মায়ের মতোই ভাল

    রজত কর্মকার | 31-12-2020

    মেলবোর্ন যেন টিম ইন্ডিয়ার কাছে এমন এক আত্মীয়ের মতো

    কান ভাল না হলে গান ভাল হয় না।'

    বগল না খুললে টেস্ট খেলা যায় না।'

     

    ছোটবেলায় আমার দুই গুরুর কাছে দুটো আপ্তবাক্য শুনেছিলাম। একেবারে মনে ছেপে রয়েছে। এক্কেবারে ছোট বয়স থেকে গানবাজনার অভ্যাস করেছিলাম, তাই প্রথমটি শুনতে পেয়েছিলাম। কৈশোরে প্রবেশ করার পরে ক্রিকেটের ধুম জ্বরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। ‘ফ্যাভ ফাইভ’-কে দেখে বড় হয়েছি। ফলে ওই জ্বর আসা স্বাভাবিক ছিল

     

    দ্বিতীয় আপ্তবাক্যটি প্রচণ্ড ধমকের সুরে শুনতে হয়েছিল। মাঠে নেমেই প্রথম বল থেকে ছক্কা হাঁকানোর মেজাজে থাকতাম। সব সময়ই লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান মোডে থাকা আমায় দেখে প্রচণ্ড বকেছিলেন মেজমামা। তিনি আমার প্রথম ক্রিকেট শিক্ষক ছিলেন। নিজে অত্যন্ত ভাল ক্রিকেট খেলতেন। পরবর্তীকালে প্রথম ডিভিশনে খেলার সুবাদে আরও বেশ কয়েকজন নামী ক্রিকেট প্রশিক্ষক এবং খেলোয়াড়ের সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়েছিল। তবে কাঁচা মাটিতে প্রথম ছাপটা মেজমামার ছিল

     

    বহুদিন পর ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ দেখতে গিয়ে দ্বিতীয় আপ্তবাক্যটি ফের একবার মনে পড়ল। প্রথম টেস্টেও ভারত জেতার মতো জায়গায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ‘যাওয়া আসার মাঝে’ মাত্র 36 রানেই মাঠে হেঁচকি তুলে শেষ নিঃশ্বাস পড়েছিল ভারতের সাধের ব্যাটিং লাইন আপের। এর কোনও সঙ্গত কারণ কেউ দেখাতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনাররা যদি প্রথম 20 ওভার সামলাতে না পারে, তবে খুব দ্রুত মিডল অর্ডার এক্সপোজ হয়ে যেতে পারে একে তো নয় মাস পরে গোলাপি বলে দিন-রাতের টেস্ট খেলা। তায় আবার পৃথ্বী সাউ-র মতো ওপেনার। ওর বোঝা উচিত ভারতের ভ্যাদভ্যাদে উইকেটে ও খেলছে না। যেখানে হাঁটুর উপর বল তুলতে যে কোনও সিমারের নাভিশ্বাস ওঠে। ওটা অস্ট্রেলিয়াওখানে পেস বোলারের চাষ করা হয়ে আসছে বেশ কয়েক দশক ধরে। ধর তক্তা মার পেরেক অ্যাপ্রোচ নিয়ে আইপিএলে কয়েকটা ম্যাচ খেলা যেতে পারে, অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা যায় না। একই রোগের শিকার হয়েছিলেন ভারতের টপ অর্ডারের প্রায় সমস্ত ব্যাটসম্যান

     

    তা হলে প্রশ্ন উঠছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কী এমন ঘটল যে অস্ট্রেলিয়া একই টিমের কাছে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়লউত্তর ওই আপ্তবাক্যে লুকিয়ে আছে। বগল খুলে টেস্টে খেলা কথাটা শুনে এটা ভেবে বসবেন না যে, ঘেমো বগলের গন্ধে বিপক্ষকে নাজেহাল করে ভারত টেস্ট জিতেছে। খেলতে গেলে ঘাম হবেই। আর ঘাম হলে গন্ধ হবে না এ কথা মানা কঠিন। সকলেই হয় বলে জানি। বগল খোলা মানে ব্যাট সমেত হাত উপরের দিকে তুলে বলকে কিপারের দস্তানার রাস্তা দেখানো। প্রথম ইনিংসে বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান এই কাজটি সাফল্যের সঙ্গে করেছেন। গন্ধ সেখানে ব্রাত্য। প্রথম ইনিংসের 131 রানের লিডটাও টেস্ট জিততে দারুন সাহায্য করেছে ভারতকে

     

    যাই হোক, এসব তো গেল টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ। ক্রিকেটে পয়া মাঠ বলে একটা কথা আছে। অনেকে মানেন, অনেকে মানেন না। এই টেস্ট জেতার পর আমার এই ধারণা হয়েছে, মেলবোর্ন হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের সবচেয়ে পয়া মাঠ। ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফরের ইতিহাস 72 বছরের। এর মধ্যে 2018-2019 সালে বিরাটের নেতৃত্বে মাত্র একবার টেস্ট সিরিজ জিতে ফিরেছে ভারত। 2002-2003 সালে ‘দুই স্টিভ’ সেই পথ আগলে দাঁড়ান। একজন তৎকালীন অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয়। অন্যজন ছিলেন আম্পায়ার স্টিভ বাকনার। এ বাদ দিলে ভারতের রিপোর্ট কার্ড একেবারে রক্তাক্ত। লাল কালিতে ভরা। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে মাত্র 8টা টেস্টে জয়ের স্বাদ পেয়েছে ভারত। যার মধ্যে চারটেই মেলবোর্নে!

     

    প্রথমবার 1977-’78 সালে বিষেন সিং বেদীর নেতৃত্বে। দ্বিতীয়বার 1981 সালে সুনীল গাভাসকারের নেতৃত্বে। তৃতীয়বার বিরাট কোহলির নেতৃত্বে 2018 সালে। পারিবারিক কারণে বিরাট দেশে ফেরায় 2020-তে চতুর্থবার এই বিরল নজির গড়ে চিরকালের জন্য অমর হয়ে রইলেন ক্যাপ্টেন অজিঙ্ক রাহানে। মেলবোর্নের পরেই পয়া মাঠের তালিকায় থাকবে অ্যাডিলেড। সেখানে 2টি টেস্ট জিতেছে টিম ইন্ডিয়া

     

    মেলবোর্ন যেন টিম ইন্ডিয়ার কাছে এমন এক আত্মীয়ের মতো, যিনি মা না হলেও মায়ের মতো তো বটেই। খাইয়ে দাইয়ে মুখ মুছিয়ে নরম ঘাসের ওড়নায় ঢেকে ঘুমও পাড়িয়ে দেন। অন্তহীন সিনেমায় সেই গানের লাইনটার কথা মনে পড়ে যায়,

    তুমি মায়ের মতোই ভাল...

    আমি একলাটি পথ হাঁটি...

     


    রজত কর্মকার - এর অন্যান্য লেখা


    বৃহস্পতিবার দুপুরে “রামের নামে” ফের চলল গুলি। ৭২ বছর পরেও যে নাথুরাম গডসে জীবিত রয়েছে

    এ বার নিজের দফতরের দায়িত্ব নিচ্ছেন দিয়েগো... এল দিয়েগো... দ্য গ্রেট দিয়েগো...

    ওহঃ, একজন পুরুষ বটে! না, তিনি পুরুষ নন, মহাপুরুষ। না হলে এমন কথামৃত মুখ থেকে বার হয়?

    সম্প্রতি দিল্লিতে হিন্দু মহাসভা ‘ভগবানের অবতার করোনা ভাইরাস’ থেকে বাঁচতে গোমূত্র পার্টি অরগ্যানাইজ ক

    দেশে ভূতের সংখ্যা কম নেই, তাদের মুখে রাম নামেরও বিরাম নেই। এমন পরিস্থিতিতে রামায়ণই আদর্শ ধারাবাহিক।

    ভাল করে বাংলা না বলেও বাংলার মানুষের জন্য প্রাণ কেঁদে ওঠে যাঁর, সেই ঘোষবাবু বদলের সঙ্গে বদলার স্বপ্ন

    মেলবোর্ন, তুমি মায়ের মতোই ভাল-4thpillars