Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • নিজেদের বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট উপেক্ষা করে সরকার এক মাস হাত গুটিয়ে বসেছিল

    নীতিন শেঠি এবং কুমার সম্ভব শ্রীবাস্তব | 24-04-2020

    প্রতীকী ছবি

    ভারতে লকডাউনের ফলে আইসোলেশন শুধু ধনীদের পক্ষেই সম্ভব যাঁরা ফাঁকা ফাঁকা বাড়িতে থাকেন। গরিবদের ক্ষেত্রে লকডাউন বরং কমিউনিটির মধ্যে ভাইরাস ছড়াতেই সাহায্য করবে যদি না নিবিড়ভাবে দরজায় দরজায় গিয়ে সংক্রমণ বাছাই এবং আক্রান্তদের দ্রুত কোয়ারান্টাইন করা হয়। একজন COVID রোগী যদি শত শত মানুষের সঙ্গে একই শৌচাগার ব্যবহার করে তাহলে কী হবে?”

     

    বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞদের যথেষ্ট সতর্কতা সত্ত্বেও ভারত সরকার COVID-19 মহামারীর মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে অনেক দেরি করে। সরকারের বিভিন্ন বৈঠকে কার্যবিবরণী এবং নথিপত্র থেকে Article14 এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছে। গত 29 মার্চ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সরকারি টাস্কফোর্সের এক বৈঠকে All India Institute of Medical Sciences- এর মেডিসিন বিভাগের প্রধান নভীত উইগ বলেছিলেন, সবই ঠিক আছে যদি আপনারা অ্যাকশন নেন। এই আলোচনা অনেক দূর হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। আমাদের সত্যি কথাটা বলতেই হবে।টাস্কফোর্সের আর একজন সদস্য বলেছিলেন, যদি আমরা মুম্বই, পুণে, দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর শহরের লোকেদের তাঁদের নিজেদের শহরে কী হচ্ছে না বলতে পারি, তাহলে 700 জেলায় কী করে বলব? ” ওই বৈঠকটি হয়েছিল দিল্লির All Indian Institute of Medical Sciences-এ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে 24 মার্চ দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হওয়ার চার দিন পর। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন Indian Council for Medical Research ( ICMR) –এর মহামারী এবং সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান রামান গঙ্গাখেদকর-সহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় মেডিকাল বিশেষজ্ঞরা।

     

    আরও পড়ুন: অপরিকল্পিত লকডাউনের ফল অস্থায়ী: বিজ্ঞানীরা আগেই বলেছিলেন

     

    ওই বৈঠকের রেকর্ড খতিয়ে দেখা যাচ্ছে অপরিকল্পিত লকডাউন চালু হয়ে যাওয়ার পরেও সরকারের সন্দেহজনক আক্রান্তদের পরীক্ষা করার এবং তাঁদের চিহ্নিত করার প্রোটোকল তৈরি ছিল না। ছিল বিভ্রান্তির রাজত্বআগে থেকেই পরামর্শ দেওয়া সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছু না হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে লকডাউনের বিষয়েও সরকার তার নিজেরই শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের সুপারিশ মানেনি। বর্তমানে চালু দমনমূলক লকডাউন নয়, তাদের সুপারিশ ছিল সামাজিক এবং সিভিল সোসাইটির তত্ত্বাবধানে আত্ম-কোয়ারান্টাইন এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণ, যা ফেব্রুয়ারি মাসেই তাঁদের গবেষণায় উঠে এসেছিল। ওই গবেষণায় ভারতে করোনাভাইরাসের বিশাল প্রাদুর্ভাবের সতর্কবাণী ছিল। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে বলা হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের সুপারিশ ছিল টেস্ট করা এবং কোয়ারান্টাইনের ব্যবস্থা বাড়ানো, দেশব্যাপী নজরদারি চালু করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য যথেষ্ট সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এই গবেষণা চালিয়েছিলেন যে বিজ্ঞানীরা তাঁদের অনেকেই পরবর্তীকালে সরকারের COVID-19 টাস্কফোর্সের সদস্য নিযুক্ত হন। এই গবেষণার ফল এবং তার সুপারিশ প্রায় এক মাসের উপর সম্পূর্ণ উপেক্ষিতই ছিল। উল্টোদিকে বিজ্ঞানসম্মত কোনও স্ট্র্যাটেজি ছাড়াই চার ঘণ্টার নোটিসে দেশজোড়া লকডাউন ঘোষণা করে দেশের দরিদ্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের একইসঙ্গে জীবিকা ও খাদ্যের সঙ্কটের মুখে ফেলে দেওয়া হল

     

    এই প্রতিবেদনের প্রথম পর্বেই বলা হয়েছে যে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নীতি আয়োগের সদস্য ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সরকারের শীর্ষ উপদেষ্টা বিনোদ কে পাল বলেছিলেন যে, একটা বিজ্ঞানসম্মত প্ল্যান তৈরি করার জন্য সময় বের করাই হচ্ছে লকডাউনের আসল উপযোগিতা। এই প্ল্যানের মধ্যে ছিল অতিই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সার্বিক কোয়ারান্টাইন, গরিব মানুষের বাড়িতে জিনিসপত্রের সরবরাহ, যেখানে ক্লাস্টারের নিয়ম মানা হচ্ছে না তা দ্রুত রিপোর্ট করা, প্রতি জেলায় COVID-19-এর বিস্তার মাপা এবং হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের বেডের সংখ্যা বাড়ানো।

     

    নথিপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে যে বিনোদ পালের প্রস্তাবিত অ্যাকশন প্ল্যানের ভিত্তি ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি বিজ্ঞানীদের ওই গবেষণার রিপোর্ট (যার কথা একটু আগেই বলা হয়েছে)বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত ছিল যে COVID-19-এর লক্ষণ সম্বলিত প্রতি দুজনের মধ্যে একজনকে যদি 48 ঘণ্টার মধ্যে কোয়ারান্টাইনে নেওয়া যায় তাহলে মহামারীর বিস্তার 62 শতাংশ কমানো সম্ভব। তাহলে সংক্রমণ যখন একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে তখন রোগীর সংখ্যা অনেক কম হবেএইসব কিছু জানা সত্ত্বেও তার নিজেদের বিজ্ঞানীদেরই পরামর্শ, এমনকী আংশিকভাবে গ্রহণ করতেও সরকারের এক মাসের বেশি সময় লেগেছে।

     

    আরও পড়ুন: অপরিকল্পিত লকডাউনের ফল অস্থায়ী: বিজ্ঞানীরা আগেই বলেছিলেন

     

    স্বাস্থ্যমন্ত্রক এবং ICMR-এর কাছে Article14 বিস্তারিত প্রশ্নাবলী পাঠিয়েছে এবং তারপরেও বারবার রিমাইন্ডার এবং মেসেজ পাঠিয়েছেকিন্তু কোনও উত্তর পাওয়া যায়নিউত্তর পেলে, এই প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।

     

    বিস্তারিত ঘটনাক্রমের দিকে চোখ রাখা যাক

     

    ফেব্রুয়ারি: গবেষণা এবং সতর্কবার্তা

     

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দুনিয়াকে সতর্ক করার পরেই এবং 30 জানুয়ারি ভারতে প্রথম আক্রান্তের সন্ধান মেলার আগেই ICMR-এর কয়েকজন বিজ্ঞানী এবং অন্যান্য সংস্থায় তাঁদের কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বব্যাপী মহামারীতে ভারতের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই তাঁরা দুটো পেপার তৈরি করে ফেলেন। তার একটা ছিল রিভিউ আর একটা গাণিতিক মডেলের উপরে। দুটো পেপারই Indian Journal of Medical Research-এ প্রকাশিত হয়েছিল, যার চেয়ারম্যান হলেন ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল বলরাম ভার্গব। বলা বাহুল্য, সরকারের কাছে দুটো পেপারই উপলব্ধ ছিল। প্রথম পেপারটার শিরোনাম “The 2019 novel coronavirus disease (COVID-19) pandemic: A review of the current evidence” এবং এর গবেষকরা হলেন, স্বাস্থ্য গবেষণা দপ্তরের প্রণব চ্যাটার্জি, অনুপ আগরওয়াল, স্বরূপ সরকার; মৌলানা আজাদ মেডিকাল কলেজের নাজিয়া নাগি; ট্রান্সলেশনাল হেল্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ভবতোষ দাস; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সায়ন্তন ব্যানার্জি; এবং ICMR-এর নিবেদিতা গুপ্তা এবং রমন আর গঙ্গাখেদকর চিনের মত লকডাউন ভারতে প্রয়োগের বিষয়ে ওই পেপারে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছিল, উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এবং সরকার নির্দেশিত দমনমূলক কোয়ারান্টাইনের বদলে ভারতে বরং অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে সামাজিক ও সিভিল সোসাইটির উদ্যোগে আত্ম-কোয়ারান্টাইন এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণ

     

     

    দ্বিতীয় পেপারটির শিরোনাম ছিল “Prudent public health intervention strategies to control the coronavirus disease 2019 transmission in India: A mathematical model-based approach”, যার গবেষকরা হলেন, স্বাস্থ্য গবেষণা দপ্তরের সন্দীপ মণ্ডল, অনুপ আগরওয়াল, অমর্ত্য চৌধুরী এবং স্বরূপ সরকার; ICMR-এর তরুণ ভাটনগর, মনোজ মুরহেকর এবং রমন আর গঙ্গাখেদকর; ইম্পেরিয়াল কলেজ, লন্ডনের নিমলন আরিনামিনরাথি।

     

    দ্বিতীয় পেপারটিতে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই এবং ব্যাঙ্গালোর, দেশের এই চারটি মহানগরে সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে চর্চা করা হয়েছিল। আগে থেকে কোনও ব্যবস্থা না নিলে ওই পেপার অনুসারে সংক্রমণ যখন শীর্ষে তখন শুধু দিল্লিতেই আক্রান্তের সংখ্যা হয় অন্তত 15 লক্ষCOVID-19 পজিটিভ প্রতি দুজনের মধ্যে একজনকে যদি রোগের উপসর্গ ধরার পড়ার তিনদিনের মধ্যে কোয়ারান্টাইন করা যায় তাহলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসে 62 শতাংশ।

     


    স্বাস্থ্য গবেষণা দফতরের সন্দীপ মণ্ডল এবং সব বিজ্ঞানীদের ফেব্রুয়ারি মাসের গবেষণাপত্রের
    অংশবিশেষ। বলা হচ্ছে যে, আক্রান্তদের অর্ধেককে যদি দু দিনের মধ্যে কোয়ারান্টাইনে নেওয়া যায়
    তবে মোট সংক্রমণ 62 শতাংশ কমতে পারে। এক মাসের উপর এই রিপোর্ট উপেক্ষিত পড়ে ছিল।

     

    উল্লিখিত পেপার দুটির সঙ্গে যুক্ত পাঁচজন - সরকার, গঙ্গাখেদকর, গুপ্তা, মুরহেকর আর ভাটনগর সরকারের 21 সদস্যের COVID-19 টাস্কফোর্সের সদস্য। সরকার হচ্ছেন ICMR-এর চেয়ারম্যান আর গঙ্গাখেদকর জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব।

     

    উপরের দুটি পেপারের গবেষকদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান যে দেশব্যাপী লকডাউন আর কোয়ারান্টাইন বা আইসোলেশনে থাকা এক জিনিস নয়। তিনি বলেন, ভারতে লকডাউনের ফলে আইসোলেশন শুধু ধনীদের পক্ষেই সম্ভব যাঁরা কম ঘনবসতিপূর্ণ ফাঁকা ফাঁকা বাড়িতে থাকেনকিছুটা হলেও তাঁরা এর ফলে রোগের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন। কিন্তু গরিবদের ক্ষেত্রে লকডাউন বরং কমিউনিটির মধ্যে ভাইরাস ছড়াতেই সাহায্য করবে যদি না নিবিড়ভাবে দরজায় দরজায় গিয়ে সংক্রমণ বাছাই এবং আক্রান্তদের দ্রুত কোয়ারান্টাইন করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে গরীব মানুষরা গা ঘেঁষাঘেঁষি করে থাকে, অনেক সময়েই সাধারণ শৌচাগার ব্যবহার করে। লকডাউনের ফলে সম্ভবত COVID-19 রোগী বাধ্য হয়েছে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অন্যদের সঙ্গে এভাবে থাকতে। কল্পনা করুন একজন COVID রোগী যদি শত শত মানুষের সঙ্গে একই শৌচাগার ব্যবহার করে তাহলে কী হবে? উপরন্তু দমনমূলক লকডাউনের ফলে সে কর্তৃপক্ষের কাছে যেতেও পারছে না।

     

    ফেব্রুয়ারী মাসে পাওয়া এই গবেষণার কোনও গুরুত্বই সরকার দেয়নি।

     

    আরও পড়ুন: অপরিকল্পিত লকডাউনের ফল অস্থায়ী: বিজ্ঞানীরা আগেই বলেছিলেন

     

    মার্চ: টাস্কফোর্স আর লকডাউন

     

    18 মার্চ নীতি আয়োগের সদস্য বিনোদ কে পালের নেতৃত্বে সরকার 21 জন বিজ্ঞানী এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে নিয়ে COVID-19 টাস্কফোর্স গঠন করল। 14 মার্চ প্রধানমন্ত্রী 21 দিনের লকডাউন ঘোষণা করলেন। তার চারদিন পরে টাস্কফোর্সের মিটিংয়ে AIIMS-এর নভীত উইগ COVID-19 মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ব মহমারীর মোকাবিলায় টাস্কফোর্স করছেটা কী? আমি জানি না... আমরা কী করছি। গঙ্গাখেদকর বলেন, সঠিক প্রশ্ন। কিন্তু আমাকে জিজ্ঞেস করবেন না। আমি চেয়ারম্যান নই। আমারও তো একই প্রশ্ন।” (টাস্কফর্সের চেয়ারম্যান বিনোদ পাল ছাড়াও দুই কো-চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব প্রীতি সুদান এবং ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল ভার্গব কেউই ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না) বৈঠকে একজন মহামারী বিশেষজ্ঞ বলেন, সমস্যা হচ্ছে লকডাউনের ফলে লোকে এখন হাসপাতালে আসছে না। তাই আমাদেরই বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। এই বাড়ি বাড়ি যাওয়ার কাজটা কীভাবে হবে, IDSP (Integrated Disease Surveillance Programme) করবে নাকি জেলা প্রশাসন করবে সেটাই ঠিক করতে হবে।

     

    উপরের এই কথাবার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছে মার্চের শেষ পর্যন্ত COVID-19 উপসর্গ সম্বলিত রোগীদের খোঁজ করার জন্য সরকারের নজরদারি ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না আর লকডাউনের ফলে এই কাজটায় সুবিধে হওয়ার বদলে বরং তা ব্যাহতই হয়েছে। নজরদারি কী করে আরও বাড়ানো যাবে এই বিষয়েও কোনও পরিষ্কার দিশা ছিল না। বৈঠকে উপস্থিত অন্য বিশেষজ্ঞরাও এর সঙ্গে একমত হন। তাঁরাও বলেন যে, ইনফ্লুয়েঞ্জার মত উপসর্গওয়ালা রোগীরা লকডাউনের জন্য হাসপাতালে আসছেই না, এটাই বড় সমস্যা। ICMR-এর একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিনিয়র মহামারী বিশেষজ্ঞ Article14-কে বলেন, টেস্ট করার স্ট্র্যাটেজি কী হওয়া উচিত তার জন্য আলোচনা করতে হবে।

     

    বৈঠকে একজন কমিটি মেম্বার বলেন, লকডাউনের শুরু থেকেই আমরা বলছি লোকে চিকিৎসা পরিকাঠামোর কাছে আসবে নাকিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রক কী ভাবছে আর কী করছে? কোনও কোনও রাজ্যে ইতিমধ্যেই অ্যাপ ভিত্তিক নিজেই নিজের অবস্থা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা চালু করেছে। গঙ্গাখেদকর মিটিংয়ে বলেন যে টেস্ট করার প্রোটোকল তখনও ঠিক হয়নি। ICMR-এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং অন্যান্যদের সঙ্গে তিনি এ নিয়ে আলোচনা করবেন

     

    আরও পড়ুন: অপরিকল্পিত লকডাউনের ফল অস্থায়ী: বিজ্ঞানীরা আগেই বলেছিলেন

     

    এপ্রিল: ফেব্রুয়ারী মাসের গবেষণা আবার তুলে আনা হল

     

    এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নীতি আয়োগের সদস্য বিনোদ পাল ওই ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারি বিজ্ঞানীদের গবেষণার এবং সুপারিশের প্রসঙ্গটি ফিরিয়ে আনলেন। সরকারকে তিনি বললেন, ওই রিপোর্টগুলির ভিত্তিতে ধারাবাহিক স্বাস্থ্য পরিষেবা (continuum of care) চালু করুক সরকারজনসমষ্টির মধ্যে নজরদারি এবং পরীক্ষা এবং উপসর্গ থাকলে দ্রুত কোয়ারান্টাইনের পরামর্শ দিলেন পাল। বিজ্ঞানীরাও লকডাউনের বদলে এই কথাই বলেছিলেন।

     

    বিনোদ পাল কিন্তু লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা বলেননি। তিনি বলেছেন, যে ICMR লকডাউনের সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে দিয়েছে এবং সুপারিশ করেছে যে দরজায় দরজায় গিয়ে দেশব্যাপী নজরদারি শুর করার জন্য যে সময়টা দরকার সেই সময়টা বের করাই লকডাউনের উপযোগিতা। তিনি বলেছেন, নজরদারি এবং পরীক্ষা দ্রুত বাড়ালে যাঁদের উপসর্গ আছে তাঁদের সরকারি কোয়ারান্টাইন ব্যবস্থায় রাখা যাবে, আর যাঁদের সামর্থ আছে তাঁরা নিজেদের বাড়িতেই কোয়ারান্টাইনে থাকতে পারবেন।

     

    টাস্কফোর্স 6 এপ্রিল অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং বর্ধিত নজরদারি নিয়ে কাজ করার জন্য কতগুলি রিসার্চ গ্রুপ গঠন করে। বিশ্বে যে দেশগুলির পরীক্ষার হার সব থেকে কম, ভারত তার মধ্যে অন্যতম। অথচ পরীক্ষার হার বাড়ানো এবং দরজায় দরজায় গিয়ে নজরদারি করার আগেই 14 এপ্রিল আবার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হল 3 মে পর্যন্ত।

     

    মূল ইংরেজি  প্রতিবেদনটি রয়েছে এখানে www.Article-14.com

     

     


    নীতিন শেঠি এবং কুমার সম্ভব শ্রীবাস্তব - এর অন্যান্য লেখা


    বিজ্ঞানীদের উপদেশ অনুযায়ী COVID-19-এর মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনও করে উঠতে পারেনি সরকার।

    বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞদের যথেষ্ট সতর্কতা সত্ত্বেও ভারত সরকার COVID-19 মহামারীর মোকাবিলার প্রস্তুতি নি

    নিজেদের বিজ্ঞানীদের রিপোর্ট উপেক্ষা করে সরকার এক মাস হাত গুটিয়ে বসেছিল-4thpillars