Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • স্থগিত কৃষি আইন

    4thpillars ব্যুরো | 14-01-2021

    সাংবাদিক সুদীপ্ত সেনগুপ্তের সঙ্গে আলোচনায় আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, প্রবন্ধকার রঞ্জন রায় এবং সাংবাদিক রজত রায়।

    সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা নরেন্দ্র মোদী সরকারের? নাকি সরকারের মুখরক্ষা শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে? স্থগিত হল বিতর্কিত কৃষি আইনগুলি। এবার কী? এই নিয়েই 12 জানুয়ারি (মঙ্গলবার) www.4thpillars.com একটি আলোচনার আয়োজন করেছিল। এই আলোচনায় সাংবাদিক সুদীপ্ত সেনগুপ্তের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, প্রবন্ধকার রঞ্জন রায় এবং সাংবাদিক রজত রায়।

     



    1) সুপ্রিম কোর্ট নতুন তিনটি কৃষি আইনে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে শীর্ষ আদালত বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় শুনানি হওয়ার আগে স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি। জেলবন্দি, গুরুতর অসুস্থ মানবাধিকার কর্মীর সিপারে জল খাওয়ার আবেদন শুনতেও অস্বাভাবিক সময় নিয়েছিল আদালত।

    2) প্রতিবাদী কৃষকদের পক্ষ থেকে কেউ কিন্তু এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাননি। সরকারপক্ষই বরং কোর্টের শরণ নিল, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, সাম্প্রতিক সময়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনি বৈধতার তুলনায় প্রশাসনিক ন্যায্যতা নিয়ে বেশি ভাবিত। কাশ্মীরে 370 নং ধারার অবলুপ্তি কিংবা রামমন্দির রায়ে সুপ্রিম কোর্টকে রীতিমতো সরকারের রক্ষাকর্তা হিসাবে দেখা গেছে।

    3) সুপ্রিম কোর্ট কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য 4 জনের যে কমিটি গঠন করেছে, সেই কমিটির প্রত্যেক সদস্যই ঘোষিতভাবে এই কৃষি আইনের সমর্থক। তাঁদের নয়া কৃষি আইনের গুণগান সম্বলিত প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে শীর্ষ আদালতকে ঢাল করে সরকার এই আন্দোলনকে ভাঙতে চাইছে।

    4) কৃষকরা চাইলে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত এই কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নাও বসতে পারে। এতে কোনও আদালত অবমাননা হবে না। কেননা কৃষকদের সমস্যা সমাধান করার সংস্থান কোর্টের নেই। সেটা একমাত্র সরকার করতে পারে।

    5) অনেকের মধ্যে একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে, দিল্লি সীমান্তে শুধু বড় কৃষকরাই আন্দোলনে রয়েছেন। এটা একেবারেই ভুল ধারণা। হয়তো বড় কৃষকরা নেতৃত্বের প্রথম সারিতে রয়েছেন, কিন্তু ছোট বড় কৃষকরাও এই আন্দোলনে রয়েছেন। আন্দোলনকারী কৃষকরা সরকারের কাছে কৃষি সংক্রান্ত যে সমস্ত দাবিদাওয়া রেখেছেন, তা ফলপ্রসূ হলে বাংলা সহ গোটা দেশের কৃষক সমাজ উপকৃত হবে।

    6) চুক্তিচাষ বা কন্ট্রাক্ট ফার্মিং কৃষকদের কোনও মুক্তি দেবে না। উলটে তাদের খাঁচাবন্দি করবে। প্রথম কয়েক বছর তাঁরা সামান্য লাভের মুখ দেখলেও, আদতে নীলচাষের মতো তাঁরা চুক্তির ফাঁদে পড়বেন। তাছাড়া নব্য উদার অর্থনীতির যে প্রাকশর্ত— মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক বাজার

    7) সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ দিয়েছে— তা সরকার রাখছে কই? মাত্র কয়েকটি পুঁজিপতির হাতে দেশের কৃষিক্ষেত্রকে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কৃষকদের কাছে খুব বেশি বিকল্পও থাকছে না।

    8) 26 জানুয়ারি কৃষকদের জন্য প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়। কৃষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা সেই অনুষ্ঠানকে কোনওভাবেই ব্যাহত করবেন না। তারা রাজধানীর অন্যত্র তাঁদের কর্মসূচি চালাবেন।

    9) যখন নতুন কৃষি আইন নিয়ে ফয়সালা করার জন্য আদালতে যাওয়ার কথা হচ্ছিল তখন অনেকেই কৃষকদের অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন সরকারের এই ফাঁদে পা না দেন। কারণ সাংবিধানিক ভাবে এই আইনগুলোকে অসাংবিধানিক বলা অসম্ভব। আইন বাতিল হবে না। এটা সুপরিকল্পিত ভাবে করা হল, যাতে কোর্টের চক্করে ঢুকিয়ে দিয়ে আন্দোলনকে ব্যাহত করা যায়।

    10) সুপ্রিম কোর্টে সাম্প্রতিক কালে যে ভূমিকা নিচ্ছে, তা স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়। এই সুযোগে কেন্দ্রীয় সরকার অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাসকে সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠিত করছে। সেখানে দাঁড়িয়ে কিছু হাইকোর্টের ভূমিকা প্রশংসনীয়। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট এভাবে চললে তার প্রভাব হাইকোর্ট গুলোর উপরেও পড়বে। মানুষ বিচারব্যবস্থার ওপর ভরসা হারাচ্ছে।

    11) গণআন্দোলনের তীব্রতা গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ব্যবস্থাকে ঠিক রাখে। তেমনই গণআন্দোলনের দুর্বলতা একটি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। অতীতে বহুবার দেখা গেছে, জনমতের চাপে কোর্ট তার অবস্থান বদল করেছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশের কৃষক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলি একযোগে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে। এই ব্যাপারটা একটা নতুন আশার সঞ্চার করছে। সাধারণ মানুষও আদালত অবমাননার ভয়ে ভীত না হয়ে, কোর্টের ভুলত্রুটি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হচ্ছে।
     


    4thPillars ব্যুরো - এর অন্যান্য লেখা


    একটি আত্মহত্যার কাহিনিতে মানুষকে মজিয়ে আসল ইস্যুগুলোকে আড়াল করারই কৌশল

    রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি নিয়ে, তাঁর ভাবনা নিয়ে কতটুকু চর্চা করে বাঙালি? মনের কথা খুলে বললেন কবীর সুমন।

    জনৈক ব্যক্তির দু'টো টুইট আর কিছু বক্তব্যে কোনও প্রতিষ্ঠান ভেঙে যায়? এতই ঠুনকো প্রতিষ্ঠান?

    অন্তরমুখী সোজা পথ ধরে অজানা গন্তব্যের দিকে যা যা পাওয়ার

    আজকের ভারতে চরম দক্ষিণপন্থী শাসনে যেন সেই ইউটোপিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে!

    আমাদের শাসক কি পুরোই অন্ধ? প্রধানমন্ত্রীর এই চমকদারির মূল্য সাধারণ মানুষকে চোকাতে হবে না তো?

    স্থগিত কৃষি আইন-4thpillars