Support 4thPillars

×
  • আমরা
  • নজরে
  • ছবি
  • ভিডিও

  • প্রিয় বন্ধু আবার

    অয়ন্তিকা দত্ত মজুমদার | 03-09-2020

    প্রিয় বন্ধু আবার

    কতজন সহমত হবেন জানা নেই, তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে সঙ্গীতশিল্পী বা পরিচালক বা অভিনেতা অঞ্জন দত্তের থেকেও কথক বা ন্যারেটর অঞ্জন দত্তকে বেশি পছন্দ। ফলে যখন জানতে পারলাম অঞ্জন দত্তের ‘প্রিয় বন্ধু’-র দ্বিতীয় ভাগ আসছে, তখন সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কেটে ফেলার লোভ সামলাতে পারিনি। কোন দিন, কী বার, কত তারিখ, কোন সময় দেখার চেষ্টাই করিনি। প্রাইভেট গ্রুপের ফেসবুক লাইভে 30 আগস্ট রাত 8টায়, অঞ্জন দত্ত আবারও শোনালেন দুই বন্ধুর কথোপকথন, ‘প্রিয় বন্ধু আবার’-এ। সঙ্গে নীল দত্তের অনবদ্য গান। 

     

    লাইভ শো এখন ফেসবুক লাইভে এসে ঠেকেছে। ফলে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চির স্ক্রিনেই প্রিয় বন্ধুদের আলাপচারিতা হবে বলাই বাহুল্য। ‘প্রিয় বন্ধু আবার’ ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই জল্পনা শুরু। তাহলে কি এই ভাগে দুই বন্ধুর দেখা হবে আবার? কেমন আছে আজকের অর্ণব চ্যাটার্জি? শেষ হল আসমা চৌধুরী জয়িতার বই লেখা? এসব প্রশ্নের অবসান ঘটে নাটকের প্রথম কয়েক বাক্যেই। মারা গেছেন জয়িতা। এবারের আলাপচারিতা তাঁর মেয়ে জয়ি রহমানের সঙ্গে। অর্ণবকে সে চিনেছে মা এবং মায়ের বন্ধুর আদানপ্রদান করা চিঠি পড়েই। নেহাতই প্রয়োজনে পড়ে অর্ণব চ্যাটার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। শুরু হয় কথোপকথন। 

     

    জয়িকে নিজের চোখে দেখার লোভ সামলাতে না পেরে গ্লেনারিজে যখন কাজের জন্য মিটিং করতে যায় জয়ি, তখন তাকে লুকিয়ে দেখে অর্ণব। কিন্তু সামনে গিয়ে কথা বলার সাহস হয়নি। অর্ণব দেখে জয়ির হাবভাব অবিকল তার মায়ের মত, উচ্ছ্বসিত হয়ে হাত-পা ছুঁড়ে কথা বলা স্বভাব। পেশায় পরিচালক জয়ি স্পষ্টবাদী, প্রাণোচ্ছ্বল, কর্মঠ, তার কাজ দেশ-বিদেশে স্বীকৃত। অন্যদিকে অর্ণব চ্যাটার্জি এখন পেশাদার মিউজিশিয়ান, বেশ বিখ্যাতও বটে, দেশ-বিদেশে শো করে বেড়ান। যুগ বদলেছে, চিঠি ছেড়ে মেলেই বেশি স্বচ্ছন্দ এখন সকলে। এই দুই অসমবয়সী মানুষের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে বেশি সময় লাগে না। 

     

    এরপর গল্পের স্রোত বয়ে চলে কখনও ঢাকা থেকে দার্জিলিং, তো কখনও কলকাতা, কখনও লন্ডন বা সেখান থেকে মায়ানমার অথবা ন্যাওড়া ভ্যালি। গল্পের সঙ্গে ট্র্যাভেল করেছে শ্রোতারাও। খুব জোর দিয়ে বলতে পারি, লাইভ শুনতে শুনতে অঞ্জন দত্তের সঙ্গে লাইভে থাকা প্রায় সাড়ে পাঁচশো জনই চোখের জলে গাল ভিজিয়েছেন। অর্ণব চ্যাটার্জি, জয়ি, চঞ্চল ডাক্তার, টোভিন কিংবা ‘পথের পাঁচালী’র অপুর সঙ্গে শ্রোতারাও ভাবার চেষ্টা করেছেন, শিকড় আদৌ কেবল মনের ভেতরেই আছে নাকি তাকে আলাদা কোনও জায়গায় পাওয়া যাবে? শেকড়ের মানে কি সকলের কাছেই এক? সত্যিই কি কখনও ‘নেমে এসে পাশে বসে ঈশ্বর’? 

     

    অঞ্জন দত্তের ভয়েস মডিউলেশন এবং ডায়লগ ডেলিভারির ধরন, যারা অভিনয় জগতে নতুন কাজ করতে চাইছে তাদের জন্য বেশ শিক্ষণীয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার লাইভে কেবল গানের অংশগুলো ছাড়া একটানা পাঠ করেছেন অঞ্জন দত্ত, একবার অর্ণব হয়ে, একবার জয়ি হয়ে। কয়েক সেকেণ্ডে গলার টোন বদলে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের একটি চরিত্রে ঢুকে, আবেগ এবং মুড একেবারে অক্ষুণ্ণ রেখে সংলাপ বলে যাওয়া একদমই মুখের কথা নয়। তবে লাইভে একটানা দু’টি চরিত্র করার সময়ে কিছু ভুল উচ্চারণ মুখ ফস্কে বেরিয়েছে বটে। রেকর্ডেড ভিডিও বা অডিও হলে এই সমস্ত ব্যাপার একেবারে নিখুঁত হত সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে গোটা গল্পের অ্যাম্বিয়েন্স এক মুহূর্তের জন্যও নষ্ট হতে দেননি তিনি, আর এখানেই জিতে গেছেন কথক অঞ্জন দত্ত। মাঝে তাঁর গলায় ‘বদল’ গানটা শোনা ছিল উপরি পাওনা। শ্রুতিনাটকের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ গান। গল্পের প্রত্যেক ধাপের সঙ্গে এর থেকে বেশি মানানসই গান বোধহয় নীল দত্ত ছাড়া আর কেউ তৈরি করতে পারতেন না। প্রত্যেকটা গানের লিরিক্স গল্পের মুডকে যথাযথ সঙ্গত করেছে। অনেক প্ল্যান করে কোনও কাজ করলেই তা সাফল্য আনবে এমনটা নাও হতে পারে। আর সেটা খুব সহজ লিরিক্সেই বুঝিয়েছেন নীল। জীবন প্ল্যানমাফিক চলে না সর্বদা। তবে আমার বেশ মনে ধরেছে ‘মুঠো ফোন’ এবং ‘নেমে এসে পাশে বসে ঈশ্বর’ গান দু’টি।

     

    পারফর্ম্যান্স শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়োজকদের তরফ থেকেই লাইভের কমেন্ট অপশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে নাটক চলাকালীন অযৌক্তিক কমেন্ট নাটকের স্বাভাবিক ধারা নষ্ট করতে পারেনি। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ দিতেই হয়। প্রোটোকল মেনেই লাইভ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে এর কোনও অডিও বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যাবে কিনা, তারও কোনও ঠিক নেই। ফলে যাঁরা ‘প্রিয় বন্ধু আবার’-এর লাইভ স্ট্রিমিং মিস করেছেন তাঁদের আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে। আর যাঁরা শুনেছেন তাঁদের আক্ষেপ, এবারেও দুই বন্ধুর ঠিক করে দেখা হল না।

     


    অয়ন্তিকা দত্ত মজুমদার - এর অন্যান্য লেখা


    এই মানুষগুলোর খাদ্যের ব্যবস্থাও কিন্তু রাষ্ট্রকেই করতে হবে

    সবকিছুর মাঝে লাভ হয় বিল্লুর। দোকানে হুড়মুড়িয়ে বিক্রি শুরু হয় তার।

    'দঙ্গল'-এর মত হিট ছবির পর পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির 'ছিঁছোড়ে' দ্বিতীয় পরিচালনা। কেমন হল সিনেমা?

    অবশেষে দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সেঙ্গার। প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক।

    সোশাল মিডিয়া ব্রেকিং নিউজ দেওয়ার উপযুক্ত স্থান নয়।

    বিজেপি সরকার প্রথম থেকেই ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র তৈরি করতে উদ্যত। সেখানে জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিম রাজ্য

    প্রিয় বন্ধু আবার-4thpillars